আগামী বছরের বিশ্ব ইজতেমা দুই পর্বে আয়োজনের প্রাথমিক তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। প্রাথমিক সূচি অনুযায়ী, প্রথম পর্ব ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় পর্ব ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন নিয়ে বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে দুই পর্বে বিশ্ব ইজতেমা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম পর্ব হবে ৮, ৯ ও ১০ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় পর্ব ১৫, ১৬ ও ১৭ জানুয়ারি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন নিয়ে তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের সঙ্গেই আলোচনা হয়েছে। এর আগে জুবায়েরপন্থি মুরব্বিদের সঙ্গে বৈঠক করা হয় এবং বৃহস্পতিবার সাদপন্থি মুরব্বিদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। দুই পক্ষই ইজতেমা আয়োজন নিয়ে নিজেদের প্রস্তাব দিয়েছে। সবার মতামত পর্যালোচনা করে সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে।
সাদপন্থিদের প্রস্তাবের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জানুয়ারিতে জুবায়েরপন্থিদের দুই পর্বের ইজতেমা শেষ হওয়ার পর একটি যৌক্তিক সময়ের ব্যবধান রেখে রমজানের আগে এক পর্বে ইজতেমা করতে চান তারা। এ ছাড়া চলতি নভেম্বরের শেষ দিকেও ইজতেমা আয়োজনের একটি প্রস্তাব রয়েছে।
অন্যদিকে জুবায়েরপন্থিদের পক্ষ থেকে সাদপন্থিদের অন্য কোথাও ইজতেমা আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে সাদপন্থিরা এ প্রস্তাবে একমত নন বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
মাওলানা সাদের দেশে আসার বিষয়েও আলোচনা
মাওলানা সাদের বাংলাদেশে আসার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব ইজতেমাকে কেন্দ্র করে তার দেশে আসার বিষয়টি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা এবং ভিসা ক্লিয়ারেন্সের ওপর নির্ভর করবে।
তিনি আরও বলেন, ইজতেমাকে কেন্দ্র করে মুসল্লিদের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, যাতায়াত ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রস্তুতি নেবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেক উন্নত হয়েছে বলেও দাবি করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০২৫ সালের তুলনায় বর্তমানে অপরাধ পরিস্থিতি ভালো এবং ছিনতাইয়ের প্রবণতাও কমেছে।
পুলিশের ভেতরে যারা সরকারকে অসহযোগিতা করছে, তাদের শনাক্ত করতে অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা নজরদারি চালু রয়েছে বলেও জানান তিনি। দেশের মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করার চেষ্টা চলছে বলে উল্লেখ করেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে প্রতিবছর বিশ্ব ইজতেমায় দেশ-বিদেশের বিপুলসংখ্যক মুসল্লি অংশ নেন। তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের ব্যবস্থাপনায় সাধারণত ইজতেমা একাধিক পর্বে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।


















