বৃহস্পতিবার , ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

ইরানের পাশে থাকার ঘোষণা পুতিনের, ইউক্রেনে হামলা বাড়ানোর হুঁশিয়ারি

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ৮:১৯ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তেহরানের প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়ে তিনি একই সঙ্গে ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযান আরও জোরদারের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পর এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন পুতিন।

ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে কাজ করতেও তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন বলে জানান। পুতিন বলেন, যাদের তিনি ভালোভাবে চেনেন এবং যাদের ওপর আস্থা রাখা যায়, তাদের সঙ্গে কাজ করতে তার কোনো আপত্তি নেই। তিনি উল্লেখ করেন, দুই বিশেষ দূতের সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফের মস্কো সফর নিয়েও কথা বলেন পুতিন। তিনি জানান, স্নায়ুযুদ্ধের সময়ও দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ছিল। তবে বর্তমানে এ ধরনের যোগাযোগ অনেকটাই সীমিত।

ইউক্রেনে হামলা বাড়ানোর ইঙ্গিত

বিশকেকে পুতিনের বক্তব্যের সময় ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। দুই পক্ষই বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আকাশপথে হামলা বাড়িয়েছে। ইউক্রেন সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার তেল শোধনাগার, জাহাজ ও বিভিন্ন স্থাপনায় দূরপাল্লার হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার কারণে দেশটির কিছু এলাকায় জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুতিনের দাবি, ইউক্রেনের হামলায় ৪০ দিনে রাশিয়ার প্রায় ১০০টি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে রাশিয়ার অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ১ শতাংশের সমান।

এর জবাবে রাশিয়াও ইউক্রেনে হামলা জোরদার করেছে। নতুন ধরনের জেটচালিত ড্রোন ব্যবহার করে কিয়েভসহ বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালানো হচ্ছে। কৃষ্ণসাগরের বন্দরগুলোও রুশ বাহিনীর হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে, যা ইউক্রেনের শস্য রপ্তানিকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

পুতিন জানান, ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় ব্যাপক হামলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, এসব হামলার ফলে ইউক্রেনের কৃষিপণ্য রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং দেশটি আর্থিক সংকটের মুখে পড়তে পারে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ায় ড্রোন হামলার কারণে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন। এর জবাবে পুতিন ইউক্রেনের এমন কর্মকাণ্ডকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সন্ত্রাসীদের সঙ্গে আলোচনা করা হয় না।

ইরানের প্রতি রাশিয়ার সমর্থন

এসসিও সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন পুতিন। সেখানে ইরানের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় দেশটির জনগণের সাহস ও দৃঢ়তার প্রতি রাশিয়ার সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর তেহরানের প্রতি মস্কোর সমর্থন আরও স্পষ্ট হয়েছে। পুতিন বলেন, কঠিন সময়ে ইরানের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছে রাশিয়া এবং প্রয়োজনীয় কিছু পণ্যও সরবরাহ করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে রাশিয়া ইরানকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্য দিয়েছে। ক্যাস্পিয়ান সাগর হয়ে ইরানে ড্রোন তৈরির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পাঠানোর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

যুদ্ধের পরিস্থিতি নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবি

ইউক্রেন যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের বক্তব্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। পুতিন দাবি করেছেন, আগস্টে দোনেৎস্ক অঞ্চলের ২৭০ বর্গকিলোমিটার এলাকা রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে ইউক্রেনীয় যুদ্ধ পর্যবেক্ষণকারী সংগঠন ডিপ স্টেটের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে রাশিয়া মাত্র ২৬ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করেছে।

পুতিন বলেন, বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি সম্পর্কে তার কাছে একটি বস্তুনিষ্ঠ চিত্র রয়েছে।

‘দাঁতভাঙা জবাবের’ হুঁশিয়ারি

রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের বিরোধ প্রসঙ্গে পুতিন সোভিয়েত আমলে পশ্চিমা দেশগুলোকে ‘সাম্রাজ্যবাদের হাঙর’ হিসেবে বর্ণনা করার প্রসঙ্গ টেনে আনেন।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কেউ যদি রাশিয়াকে খাদ্যশৃঙ্খলে নিচে নামিয়ে দিতে, গ্রাস করতে বা দুর্বল করে দিতে চায়, তাহলে তারা ‘দাঁতভাঙা জবাব’ পেতে পারে।

পুতিন আরও বলেন, পশ্চিমা শক্তির ‘ক্ষুধা ও দাঁত’ যত দ্রুতই বাড়ুক না কেন, রাশিয়া নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় তার জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।

সর্বশেষ - অপরাধ