হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে সাময়িকভাবে একটি যৌথ নৌপথ চালুর প্রস্তাব দিয়েছে ইরান ও ওমান। কয়েক সপ্তাহের টানাপোড়েনের পর মঙ্গলবার দুই দেশের কর্মকর্তারা এ উদ্যোগের কথা জানান।
ইরান ও ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে একটি সাময়িক নৌপথ চালু এবং সেখানে থাকা মাইন অপসারণের লক্ষ্যে ধাপে ধাপে একটি কাঠামো তৈরির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি স্থায়ী নৌপথ চালু ও প্রণালীর ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর বিষয়েও আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
এর আগে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল বুসাইদি ইরান সফর করে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে আল বুসাইদি জানান, শিগগিরই হরমুজ প্রণালীতে একটি সাময়িক নৌপথ চালুর ঘোষণা দেওয়া সম্ভব হতে পারে।
তিনি বলেন, প্রণালীর ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা ও স্থায়ী সমাধানের বিষয়টি পরবর্তী সময়ে নির্ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে শান্তি, সহযোগিতা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, প্রস্তাবিত সমঝোতা শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি ইরানের অঙ্গীকারের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখার বিষয়টি তুলে ধরেছে।
এদিকে মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালী থেকে সব মাইন সরিয়ে ফেলা হয়েছে অথবা বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। নতুন করে কোনো নৌযান মাইন পাতার চেষ্টা করলে তা ধ্বংস করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
কয়েক সপ্তাহ ধরে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা চলছে। আঞ্চলিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের অচলাবস্থার মধ্যেও গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
ইরান ও ওমানের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এর ফলে আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায়ও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তথ্যসূত্র: সিএনএন

















