বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের তিন বছর তিন মাসের (২৩ এপ্রিল ২০২৩ – ২৪ জুলাই ২০২৬) ঘটনাবহুল ও বিতর্কিত অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটেছে। গত শুক্রবার (২৪ ২৪ জুলাই, ২০২৬) জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার মাধ্যমে তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেও ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান, অন্তর্বর্তী সরকার এবং পরবর্তীতে নির্বাচিত বিএনপি সরকারের শপথ পরিচালনার মতো বিরল ও বৈচিত্র্যময় সাংবিধানিক পটভূমির সাক্ষী ছিলেন তিনি।
পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক কারণ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের প্রধান দিকগুলো:
- শারীরিক জটিলতা ও অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি: পদত্যাগপত্রে শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতাকে আনুষ্ঠানিক কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ৭৪ বছর বয়সী সাবেক এই রাষ্ট্রপতির ‘অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি’ নামক বিরল স্নায়বিক রোগ শনাক্ত হওয়ায় মাঝেমধ্যে চেতনা হারানোর মতো সমস্যা তৈরি হচ্ছিল, যা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিল।
- সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বিতর্কিত ফোনালাপ: মে মাসে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে রাষ্ট্রপতির ফোনালাপের তথ্য প্রকাশ্যে এলে বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ও অন্তর্বর্তীকালীন শক্তিগুলোর সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সম্পর্কের চূড়ান্ত আস্থার সংকট তৈরি হয়।
- শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র কেন্দ্রিক বক্তব্য বিতর্ক: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র তিনি গ্রহণ করেছেন বলে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলেও, পরবর্তীতে এক সাক্ষাৎকারে “পদত্যাগপত্রের কোনো দালিলিক প্রমাণ নেই” বলে মন্তব্য করে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের মুখে পড়েন তিনি।
- অতীতের আইনি বিতর্ক ও বিএফআইইউ প্রতিবেদন: ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদে অন্তর্ভুক্তি এবং বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগ সংক্রান্ত বিএফআইইউ-এর তদন্ত প্রতিবেদন তাঁর ওপর রাজনৈতিক ও আইনি চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল।
- ‘সেফ এক্সিট’ ও সাংবিধানিক আইনি সুরক্ষা: রাজনৈতিক মহলের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মুক্ত চলাচল এবং বিদেশে চিকিৎসার সুবিধার শর্তে একটি বিঘ্নহীন প্রস্থানের (সেফ এক্সিট) সমঝোতা হলেও বিএনপি ও সরকার স্পষ্ট করেছে যে, রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগের কোনো অনিয়ম বা ইসলামী ব্যাংক সংক্রান্ত মামলায় সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদের আইনি সুরক্ষা তিনি পদত্যাগের পর আর পাবেন না।
সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন এবং আগামী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করবে।



















