মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান নিয়ে এক কঠোর ও রণকৌশলগত বার্তা দিয়েছেন। শুক্রবার (২৭ মার্চ, ২০২৬) ফ্লোরিডার মিয়ামিতে আয়োজিত এক সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইরানের সঙ্গে সংঘাত এখনই শেষ হচ্ছে না। ট্রাম্পের মতে, ইরানি ভূখণ্ডে এখনো অন্তত ৩ হাজার ৫শ’ ৫৪টি কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু মার্কিন হামলার তালিকায় বাকি রয়েছে এবং এই লক্ষ্যগুলো ধ্বংস না করা পর্যন্ত যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বক্তব্যের মূল নির্যাসগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- অসমাপ্ত লক্ষ্যমাত্রা: ট্রাম্প প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছেন যে, বর্তমান সংঘাত পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে আসেনি। তিনি স্পষ্ট করেছেন, ৩,৫৫৪টি নির্দিষ্ট সামরিক ও পারমাণবিক অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া এখন ওয়াশিংটনের প্রধান অগ্রাধিকার।
- স্থল অভিযান এড়িয়ে যাওয়ার কৌশল: পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের স্থলবাহিনী না পাঠিয়েই কেবল আকাশপথ ও উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে জয়ী হওয়ার পরিকল্পনা করছে। তাঁর মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটবে।
- দ্বিমুখী কৌশল: বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প একদিকে দ্রুত যুদ্ধ শেষ করার কথা বলছেন, আবার অন্যদিকে হামলার পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন। এটি মূলত তেহরানের ওপর চরম মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল।
- ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো: হামলার তালিকায় এত বিপুল সংখ্যক লক্ষ্যবস্তু বাকি থাকার অর্থ হলো ইরানের সামরিক সক্ষমতার একটি বড় অংশ এখনো সক্রিয়, যা ধ্বংস করাকে ট্রাম্প প্রশাসন অত্যন্ত জরুরি মনে করছে।
বর্তমানে ওয়াশিংটন তাদের নির্ধারিত ‘টার্গেট লিস্ট’ ধরে কাজ করছে এবং মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের এই অনমনীয় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে আরও দীর্ঘস্থায়ী সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত ট্রাম্পের দেওয়া আল্টিমেটামের মাঝে এই ৩,৫৫৪টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার পরিকল্পনা যুদ্ধের তীব্রতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
সূত্র: সিএনএন



















