লন্ডনে মঙ্গলবার (১০ মার্চ ২০২৬) বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী স্যার ক্রিস ব্রায়ান্ট এমপির সঙ্গে একটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন এবং বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও বহুমুখী করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের ব্লু-ইকোনমি বা সমুদ্র অর্থনীতিতে ব্রিটিশ বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বিশ্ববাজারে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে উভয় পক্ষ গুরুত্বারোপ করেন।
লন্ডন সফরের উল্লেখযোগ্য দিকসমূহ:
- বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা: বৈঠকে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষা খাতে ব্রিটিশ কারিগরি সহায়তা বাড়ানোর বিষয়ে মতবিনিময় হয়। চলতি মাসের শেষে ক্যামেরুনে অনুষ্ঠিতব্য ১৪তম ডব্লিউটিও (WTO) মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের আগে উভয় দেশ নিজেদের অবস্থান ও স্বার্থ রক্ষায় ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
- আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব: বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত ব্যারোনেস রোজি উইন্টারটন লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এই আলোচনায় বাংলাদেশকে একটি আন্তর্জাতিক মানের এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে দুই দেশের বিমান চলাচল খাতে সম্ভাব্য কারিগরি ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
- কূটনৈতিক ও আইনি অংশীদারিত্ব: আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (ICJ) ২০২৭-২০৩৬ মেয়াদের বিচারক পদে যুক্তরাজ্যের প্রার্থী অধ্যাপক দাপো আকান্দে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তার প্রার্থিতা পেশ করেন। আন্তর্জাতিক আইন ও বিভিন্ন বহুপাক্ষিক ফোরামে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের বিদ্যমান সহযোগিতায় উভয় পক্ষই সন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং ভবিষ্যতে এই কূটনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার অঙ্গীকার করেছে।
এই সফরের মাধ্যমে যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে ব্রেক্সিট-পরবর্তী বাণিজ্য পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের সহজ প্রবেশাধিকার এবং ব্রিটিশ বিনিয়োগ প্রাপ্তি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



















