গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারের অনীহার কড়া সমালোচনা করে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রশ্ন তুলেছেন, সংসদ নির্বাচন যদি বৈধ হয়, তবে তার সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোট কীভাবে অবৈধ হতে পারে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই, ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বরের ফলপট্টি এলাকায় জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি ক্ষমতাসীন বিএনপির দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সমাবেশে তিনি বলেন, “কী চমৎকার যুক্তি! একই ডেকচিতে গোশত পাকানো হয়েছে। গোশতের ঝোল হলো হারাম আর গোশত হইল হালাল। কী আশ্চর্য ব্যাপার!”। জামায়াত আমির জোর দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক মানদণ্ডে দুটি বিষয়ই অভিন্ন। গণভোটের রায় যদি গ্রহণযোগ্য না হয়, তবে একই নির্বাচনে গঠিত এই সরকারেরও কোনো বৈধ সাংবিধানিক ভিত্তি থাকে না।
জনসভায় ডা. শফিকুর রহমানের উত্থাপিত প্রধান বিষয়সমূহ:
- জনগণের রায়ের অবমাননা: প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় দিয়েছিল, যেখানে ভোটের আগে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নিজেও ‘হ্যাঁ’ ভোটের আহ্বান জানিয়েছিলেন। জয়ী হওয়ার পর এখন সেই গণভোটের রায়কে অস্বীকার করা জনগণের সঙ্গে বড় ধোঁকাবাজি।
- শপথ গ্রহণের বৈষম্য: নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর জামায়াতসহ বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা সংবিধানে নির্ধারিত দুটি শপথই গ্রহণ করেছেন, কিন্তু সরকারি দল একটি শপথ এড়িয়ে গেছে।
- শহীদদের ত্যাগের স্বীকৃতি: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগের ওপর দাঁড়িয়ে বর্তমান সরকার ও সংসদ গঠিত হয়েছে। তাঁদের অবমূল্যায়ন করা হলে জাতি ক্ষমা করবে না এবং তাদের বিচারের দাবি ত্বরান্বিত করতে হবে।
- অবকাঠামো ও প্রশাসনিক সংকট: দেশে গ্যাস সংযোগের অনিয়ম ও হকার চাঁদাবাজির বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে অবৈধ সুবিধাভোগীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
জামায়াত আমির হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের রায় অমান্য করে ইতিহাস থেকে কেউ রেহাই পায়নি। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা প্রতিষ্ঠা ও ফ্যাসিবাদের চূড়ান্ত বিলোপ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ও সংসদ—উভয় মাধ্যমেই আন্দোলন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।



















