শনিবার , ১১ জুলাই ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

ইরানের কাছে হরমুজ প্রণালিতে হামলা বন্ধের অঙ্গীকার চায় যুক্তরাষ্ট্র

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
জুলাই ১১, ২০২৬ ৭:০৭ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই ওমানের মধ্যস্থতায় আজ শনিবার (১১ জুলাই, ২০২৬) আবারও জরুরি দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বসছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তবে আলোচনার টেবিলে বসার আগেই তেহরানের কাছে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখার প্রকাশ্য ঘোষণা এবং ওই রুটে বাণিজ্যিক জাহাজে সব ধরনের গুলি বা হামলা চালানো বন্ধের কঠোর প্রতিশ্রুতি চেয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শীর্ষ কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়েছে, ইরান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টাদের ব্যক্তিগতভাবে আশ্বস্ত করেছে যে, সম্প্রতি বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালানোর ঘটনাটি ছিল মূলত একটি ‘ভুল’। তেহরানের দাবি, তাদের আনুষ্ঠানিক কমান্ডের বাইরে থাকা একদল ‘বিচ্যুত’ ও কট্টরপন্থি গোষ্ঠী চলমান শান্তি আলোচনাকে ভণ্ডুল করার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালিয়েছিল।

‘যুদ্ধবিরতি শেষ’—ট্রাম্পের কড়া বার্তা ও মার্কিন প্রতিনিধি দল

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই নিশ্চিত করেছেন যে, চলতি সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে তীব্র সংঘর্ষ হলেও উভয় পক্ষ কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে। তবে গতকাল শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প বেশ কড়া ভাষায় লিখেছেন:

“ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান আমাদের কাছে আবারও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছে। আমরা তাতে সম্মত হয়েছি। তবে আমরা তাদের স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছি যে, আগের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে।”

আজ ওমানে অনুষ্ঠেয় এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে নবনির্বাচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের প্রভাবশালী জামাতা জ্যারেড কুশনারের। রয়টার্সের উদ্ধৃতিতে এক সিনিয়র মার্কিন কর্মকর্তা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “ইরানকে হয় হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার লিখিত বিবৃতি দিতে হবে, না হলে তাদের জন্য এর সামরিক ফল মোটেও ভালো হবে না।”

জুনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি ও চলতি সপ্তাহের সংঘর্ষের প্রেক্ষাপট

উল্লেখ্য, গত জুন মাসে দীর্ঘ আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি ১৪ দফার অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতা স্মারকে পৌঁছায়, যার মূল লক্ষ্য ছিল সব ফ্রন্টে সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা। কিন্তু চলতি সপ্তাহের শুরুতে ওমানের জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের সুপারিশ করা নৌপথ ব্যবহার করার সময় তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ আকস্মিক হামলার শিকার হলে পরিস্থিতি আবারও যুদ্ধমুখী হয়ে ওঠে। জুনের চুক্তির পর এটিকে দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরান অবশ্য বারবার দাবি করে আসছে, ওমানের জলসীমা নয়, বরং তাদের নিজস্ব জলসীমা দিয়ে নির্ধারিত বিকল্প পথই একমাত্র নিরাপদ রুট। এদিকে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা কমাতে এবং আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে গতকাল শুক্রবার কাতারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলও জরুরি ভিত্তিতে ইরান সফর করেছে।

হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ প্রশাসন ও যৌথ টোল ব্যবস্থা

নৌপথের বর্তমান ও প্রস্তাবিত কাঠামোযৌথ সমঝোতা ও ইরানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা (২০২৬)
পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষপ্রণালি দিয়ে নিরাপদ নৌ চলাচলের জন্য ইরান ‘সেফ প্যাসেজ পারমিট’ ইস্যু করবে।
যৌথ আঞ্চলিক প্রশাসনভবিষ্যৎ সমঝোতার আওতায় হরমুজ প্রণালির সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ইরান ও ওমান মিলে পরিচালনা করবে।
বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে টোলনতুন ব্যবস্থায় এই কৌশলগত প্রণালি ব্যবহারকারী আন্তর্জাতিক জাহাজের কাছ থেকে ‘সেবা ফি’ আদায়ের পরিকল্পনা।

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্সের (Fars) খবরে বলা হয়েছে, সংঘাত চলাকালে ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের একচ্ছত্র সার্বভৌম কর্তৃত্বের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরে ‘পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষ’ নামে একটি নতুন রাষ্ট্রীয় সংস্থা গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সমঝোতার প্রাথমিক রূপরেখা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে এই আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির সামগ্রিক সামুদ্রিক সেবা ও প্রশাসনিক কাঠামো ইরান ও ওমানের যৌথ সমন্বয়ে পরিচালিত হবে। এই নতুন দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক ব্যবস্থাপনায় প্রণালি ব্যবহারকারী বিদেশি মালবাহী বড় জাহাজগুলোর কাছ থেকে সম্ভাব্য সামুদ্রিক ‘সেবা ফি’ বা টোল আদায়ের একটি প্রস্তাবও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত