শনিবার , ১৮ জুলাই ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

চীনের বিরুদ্ধে নির্বাচনী তথ্য চুরির অভিযোগ ট্রাম্পের

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
জুলাই ১৮, ২০২৬ ১২:১২ অপরাহ্ণ

Spread the love

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রচার শিবিরের ই-মেইল নজরদারি এবং কোটি কোটি মার্কিন ভোটারের তথ্য চুরির পেছনে চীনের প্রত্যক্ষ হাত রয়েছে বলে এক গুরুতর ও বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে এমন নজিরবিহীন সাইবার গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ তুললেও একই সময়ে আগামী দুই মাসের মধ্যে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের জন্য হোয়াইট হাউসে একটি জাঁকজমকপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফরের প্রস্তুতি অব্যাহত রাখা হয়েছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের ইস্ট রুমে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, চীনা সরকার মূলত ২০২০ সালের নির্বাচনে তাকে পরাজিত করার উদ্দেশ্যে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নির্বাচনী তথ্যভাণ্ডারে অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছিল। কারণ, তিনি বেইজিংয়ের একচেটিয়া বাণিজ্যের বিরুদ্ধে শত শত বিলিয়ন ডলারের শুল্ক আরোপ করেছিলেন এবং বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী গড়ে তুলেছিলেন। তবে এত বড় অভিযোগের পরও বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে কোনো নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বা কূটনৈতিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ঘোষণা দেননি ট্রাম্প, যা ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের দ্বিমুখী সম্পর্ক নিয়ে নতুন ভূরাজনৈতিক প্রশ্ন উসকে দিয়েছে।

ভাষণের পরদিনই হোয়াইট হাউসের এক শীর্ষ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পূর্বনির্ধারিত ওয়াশিংটন সফর ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের প্রস্তুতি আগের পরিকল্পনা অনুযায়ীই চলছে। এমনকি নিউইয়র্কে বিশ্বকাপ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প চীনের প্রশংসা করে বলেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র আবার বিশ্বকাপ আয়োজন করলে দূরত্বের ক্লান্তি কমাতে উত্তর আমেরিকান সহ-আয়োজকদের পরিবর্তে চীনের সঙ্গে যৌথভাবে টুর্নামেন্ট করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে, যা ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো তাকে পরামর্শ দিয়েছেন। তবে চীনের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো ব্যবস্থা না নিলেও ট্রাম্প নিজের দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে চরম কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, তাঁর প্রথম মেয়াদে দায়িত্ব পালন করা গোয়েন্দা কর্মকর্তারা চীনের এই তথ্য চুরির ঘটনাটি তাঁর কাছ থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গোপন রেখেছিলেন। এই ‘তথ্য গোপনের’ দায়ে চারটি ফেডারেল সংস্থাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়ে ট্রাম্প সাফ জানিয়েছেন, জড়িত কর্মকর্তাদের চাকরি থেকে বরখাস্তসহ প্রয়োজনে ফৌজদারি মামলা করা হবে; যা বিশ্লেষকদের মতে, ২০২০ সালের নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ট্রাম্পের রাজনৈতিক লড়াইয়েরই অংশ।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রতি ট্রাম্পের বেশ ইতিবাচক মনোভাবও দেখা গেছে। গত সপ্তাহে তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে তিনি নিজেকে শি জিনপিংয়ের ‘বড় ভক্ত’ হিসেবে দাবি করার পাশাপাশি ইরান যুদ্ধের সময় বেইজিং তেহরানকে সামরিক সহায়তা না দিয়ে সংযত অবস্থান বজায় রাখায় এর ভূয়সী প্রশংসা করেন। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই গুরুতর অভিযোগ সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান এক বিবৃতিতে বলেন, “এই অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। চীন সবসময় অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি অনুসরণ করে। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করার কোনো আগ্রহ আমাদের নেই।” একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে এমন ভিত্তিহীন অপপ্রচার বন্ধ করার আহ্বান জানান। মূলত দীর্ঘদিনের শুল্কযুদ্ধ ও বাণিজ্যিক উত্তেজনার পর দুই দেশই সম্পর্ক স্থিতিশীল করতে চায়, যার অংশ হিসেবে গত মে মাসে ট্রাম্প বেইজিং সফর করেন এবং আগামী নভেম্বরে চীনের শেনজেনে অনুষ্ঠিতব্য এপেক (APEC) সম্মেলন ও মিয়ামিতে জি-২০ সম্মেলনে দুই নেতার অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অবমুক্ত করা গোপন গোয়েন্দা নথিগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সেখানে ব্যাপক নির্বাচনী জালিয়াতি বা ভোট পরিবর্তনের কোনো নিশ্চিত প্রমাণ মেলেনি। তবে নথিগুলোতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, চীনা হ্যাকার গ্রুপগুলো বিপুল পরিমাণ মার্কিন নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করেছিল এবং ২০২০ সালের নির্বাচনে জো বাইডেনের প্রচার শিবিরের কর্মকর্তাদের ই-মেইল অ্যাকাউন্ট পর্যবেক্ষণ করছিল। এছাড়া চীনা সরকারি হ্যাকাররা বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ভোটার নিবন্ধনসংক্রান্ত উন্মুক্ত তথ্য ডাউনলোড করেছিল, যার ওপর ভিত্তি করে ট্রাম্প দাবি করেছেন যে চীন ২২ কোটি মার্কিন ভোটারের তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দারা ২০১৫ সালে ‘অফিস অব পার্সোনেল ম্যানেজমেন্টে’ বড় ধরনের সাইবার হামলা এবং ২০২৪ সালে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেনের দেওয়া বিবৃতির সূত্র ধরে দীর্ঘদিন ধরেই চীনের বিরুদ্ধে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যসেবার তথ্য চুরির অভিযোগ এনে আসছিল। তবে এবার ট্রাম্পের তোলা নজিরবিহীন এই অভিযোগের পরও বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া মার্কিন প্রশাসনের দ্বিমুখী ও কৌশলগত পররাষ্ট্রনীতিকেই স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।

সর্বশেষ - অপরাধ