পবিত্র রমজান মাসের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোর মধ্যে লুকিয়ে থাকা মহিমান্বিত রজনী হলো লাইলাতুল কদর বা শবেকদর। প্রচলিত অর্থে ২৬ রমজান দিবাগত রাতে এটি পালিত হলেও রাসুলুল্লাহ (সা.) শেষ ১০ দিনের যেকোনো বেজোড় রাতে এই বরকতময় রাতটি তালাশ করার নির্দেশ দিয়েছেন। ফারসি শব্দ ‘শব’ মানে রাত এবং আরবি ‘কদর’ মানে মহিমান্বিত বা ভাগ্য। সুরা আল-কদর ও সুরা আদ-দুখানে এই রাতের গুরুত্ব বর্ণনা করে বলা হয়েছে যে, এটি এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ এবং এই রজনীতেই মানবতার মুক্তির সনদ পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। বনি ইসরাইলের এক মুজাহিদের দীর্ঘ এক হাজার মাসের ইবাদতের সমান সওয়াব উম্মতে মোহাম্মদী যেন মাত্র এক রাতেই অর্জন করতে পারে, সেজন্যই আল্লাহ তাআলা এই বিশেষ উপহার দান করেছেন।
শবেকদরের গুরুত্ব ও তাৎপর্য কেবল ইবাদতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি মানুষের মর্যাদা ও প্রজ্ঞারও স্মারক। এই রাতেই পরবর্তী এক বছরের অবধারিত বিধিলিপি বা ভাগ্য ফেরেশতাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, চারজন প্রধান ফেরেশতা—জিবরাঈল, মিকাঈল, ইসরাফিল ও আজরাঈল (আ.)-এর কাছে মানুষের জন্ম, মৃত্যু, রিজিক ও বৃষ্টির তালিকা অর্পণ করা হয়। এই রাতের শান্তিময় পরিবেশ ফজর পর্যন্ত বিরাজ করে। কোরআনের প্রথম বাণী ‘ইকরা’ বা ‘পাঠ করো’ অবতীর্ণ হওয়ার মাধ্যমে মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব যে জ্ঞান ও শিক্ষার ওপর নির্ভরশীল, তা এই মহিমান্বিত রজনীতেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই মহান আল্লাহর ইবাদতের পাশাপাশি জ্ঞানের আলোয় নিজেকে উদ্ভাসিত করার এক অপূর্ব সুযোগ নিয়ে আসে এই লাইলাতুল কদর।



















