মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর সামরিক হুমকির মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের এই আকস্মিক ও শক্তিশালী হামলায় ইরানের বিমান ও নৌবাহিনীর অন্তত ৮ জন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার (IRNA) বরাত দিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বুধবার (৮ জুলাই) ভোরে দক্ষিণ ইরানের কৌশলগত বন্দর আব্বাস এবং বুশেহর এলাকায় এই রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনা ঘটে।
বন্দর আব্বাস ও বুশেহরে মার্কিন বোমাবর্ষণ
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ও নৌবাহিনীর যুদ্ধবিমানগুলো দক্ষিণ ইরানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্র বন্দর ‘বন্দর আব্বাস’ এবং পরমাণু কেন্দ্র ও নৌঘাঁটি সমৃদ্ধ ‘বুশেহর’ শহরের একাধিক সামরিক অবকাঠামো ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যূহ লক্ষ্য করে এই নিখুঁত হামলা চালায়। মার্কিন হামলায় নিহত ৮ জনের সবাই ইরানের নিয়মিত সশস্ত্র বাহিনীর বিমান ও নৌবাহিনীর সক্রিয় সদস্য ছিলেন। হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানি হামলার প্রতিশোধ এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সরাসরি হুঁশিয়ারির পরপরই এই আক্রমণ চালানো হলো, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে এক নতুন ও বিপজ্জনক মাত্রায় নিয়ে গেছে।
‘দুঃসাহসিকতার সমুচিত জবাব দেওয়া হবে’: ইরানের কঠোর হুঁশিয়ারি
এদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই ‘দুঃসাহসিকতা’র তীব্র নিন্দা জানিয়ে এর সুকঠিন ও তাৎক্ষণিক জবাব দেওয়া হবে বলে মার্কিন প্রশাসনকে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আলী আকবর বেলায়েতি। তিনি পারস্য উপসাগর (Gulf) অঞ্চলে পুনরায় যুদ্ধাবস্থা ও তীব্র অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য সম্পূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের দায়ী করেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) নিজের ভেরিফাইড অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে আলী আকবর বেলায়েতি লিখেছেন:
- চুক্তি ভঙ্গ ও ট্রাম্পের দায়: “যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক ভঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মৌখিক সম্মতি এই অঞ্চলকে আরও একবার ভয়াবহ আগুনের দিকে ঠেলে দিয়েছে।”
- রাজনৈতিক জুয়া খেলার জায়গা নয়: তিনি আরও লেখেন, “আমরা আগেই বিশ্ববাসীকে সতর্ক করে দিয়েছিলাম যে, এই কৌশলগত অঞ্চলটি কোনো পরাশক্তি বা ছোট দেশগুলোর রাজনৈতিক জুয়া খেলার জায়গা নয়। আমরা এটা অতীতেও বারবার প্রমাণ করে দেখিয়েছি যে, আমাদের সার্বভৌমত্বের ওপর যেকোনো দুঃসাহসিকতার তাৎক্ষণিক ও সমুচিত জবাব দেওয়া হয়েছে এবং এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না।”



















