শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ অভিমুখে যাত্রাকালে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) শাহবাগ ও ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় এলাকায় পুলিশ ও ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বিকেলে আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন অভিমুখে এগোতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়, যা একপর্যায়ে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল ও জলকামান ব্যবহার করে এবং আন্দোলনকারীদের লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
সংঘর্ষের ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের, ডাকসু নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমা, রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মার এবং ঢাকা-১৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিউদ্দিন রনিসহ প্রায় ৬৫ জন আহত হয়েছেন বলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে গুলির অভিযোগ তোলা হলেও সরকার এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছে যে, পুলিশ কোনো ধরনের মারণাস্ত্র বা গুলি ব্যবহার করেনি; বরং জনশৃঙ্খলা রক্ষায় কেবল জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, সরকার হাদি হত্যার বিচারে অঙ্গীকারবদ্ধ এবং আগামী রোববার জাতিসংঘের কাছে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হবে।
বিকেলের সংঘর্ষের পর আন্দোলনকারীরা পুনরায় শাহবাগ মোড়ে জড়ো হয়ে অবস্থান নেন, যেখানে রাতে আরেক দফা উত্তজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও ডাকসু ভবনের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে এসে শাহবাগে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন। পরবর্তীকালে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয় যে, আগামীকাল (শনিবার) নতুন কর্মসূচি জানানো হবে। এই ঘোষণার পর আন্দোলনকারীরা শাহবাগ এলাকা ত্যাগ করেন, তবে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।



















