তরুণ প্রজন্মকে কেবল চাকরির সন্ধানে মুখাপেক্ষী না রেখে তাদের স্বাবলম্বী ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই আশাবাদের কথা ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন যে, এমন একটি উৎপাদন ও বিনিয়োগনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যেখানে তরুণদের চাকরির জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হবে না; বরং তারা নিজেরাই নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।
সংকট মোকাবিলা ও ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’ দর্শন
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দেশের চলমান অর্থনৈতিক সংকট স্বীকার করে নিয়ে বলেন, আমরা এই পরিস্থিতিকে কোনো অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করতে চাই না। বরং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর নীতির মাধ্যমে এই সংকট সফলভাবে মোকাবিলা করা হবে। সরকারের মূল দর্শন হিসেবে তিনি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এবং ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’ নীতিকে গুরুত্বারোপ করেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারির অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে প্রাপ্ত জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান বাজেটটি কেবল বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, বরং এটি ভেঙে পড়া অর্থনীতিকে একটি নতুন ও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর রূপকল্প। ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল বাজেটের মূল লক্ষ্য হলো অর্থনীতিকে মুষ্টিমেয় কিছু সুবিধাভোগীর কবল থেকে মুক্ত করে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
অর্থনৈতিক রূপান্তরের ত্রি-স্তরীয় পরিকল্পনা
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে অর্থনৈতিক কৌশল বাস্তবায়নের জন্য তিনটি সুনির্দিষ্ট ধাপের রূপরেখা তুলে ধরেন:
- প্রথম ধাপ: মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালীকরণ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া।
- দ্বিতীয় ধাপ: ব্যাপক রাজস্ব সংস্কার, ব্যাংকিং খাতের আমূল পুনর্গঠন এবং রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণের ওপর জোর দেওয়া।
- তৃতীয় ধাপ: উৎপাদনশীল ও উদ্ভাবননির্ভর একটি প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতির ভিত্তি সুদৃঢ় করা।
সরকারি বিনিয়োগের মূল মানদণ্ড: কর্মসংস্থান সৃষ্টি
বাজেটে উন্নয়ন ব্যয় ৫০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি করে ৩ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করার যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রকল্পের পেছনে কত টাকা ব্যয় হলো, সেটিই বড় বিষয় নয়; বরং সেই প্রকল্পের মাধ্যমে মানুষের জীবনে কতটা ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে এবং তা কতখানি কর্মসংস্থান তৈরি করছে—সেটিই সরকারের মূল মানদণ্ড।
কেবল জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়লেই প্রকৃত উন্নয়ন হয় না—এই সত্য তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রকৃত উন্নয়ন তখনই ঘটে যখন সাধারণ মানুষের ঘরে স্বস্তি ফিরে আসে এবং তরুণরা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পায়। দেশীয় শিল্পের বিকাশ, রুগ্ন শিল্পকারখানাগুলো পুনরুজ্জীবিত করা এবং নতুন শিল্পাঞ্চল ভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে সরকার এমন একটি রপ্তানিমুখী ও সৃজনশীল অর্থনীতি গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, যা বাংলাদেশের তরুণ সমাজকে স্বনির্ভর করে তুলবে।


















