আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমন্বিত নিরাপত্তা প্রটোকল সরবরাহ করবে পুলিশ। এই প্রটোকলে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের বাসস্থান, কার্যালয়, চলাচল, জনসভা এবং সাইবার স্পেসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকবে।
রবিবার বিকেলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।
পোস্টে বলা হয়, গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারীর নেতৃত্ব এবং গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে বাড়তি নিরাপত্তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় হামলাকারী ও তাদের সহযোগীদের ইতোমধ্যে শনাক্ত করেছে পুলিশ। তাদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে এবং সন্দেহভাজনদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষা করা হচ্ছে। প্রধান সন্দেহভাজন যাতে সীমান্ত অতিক্রম করতে না পারে, সে জন্য সব ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে তার ছবি ও তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় বিজিবি ও র্যাবের টহল জোরদার করা হয়েছে।
পোস্টে আরও জানানো হয়, দেশের অভ্যন্তরে একাধিকবার সন্দেহভাজনদের অবস্থান শনাক্ত হলেও বারবার স্থান পরিবর্তনের কারণে এখনো গ্রেপ্তার সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশ প্রধান সন্দেহভাজনের ট্রাভেল হিস্ট্রি সংগ্রহ করেছে। এতে দেখা যায়, আইটি ব্যবসায়ী পরিচয়ে তিনি গত কয়েক বছরে একাধিক দেশ ভ্রমণ করেছেন। সর্বশেষ গত ২১ জুলাই সিঙ্গাপুর সফরের তথ্য পাওয়া গেছে।
এই হামলার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে—এমন আরও কয়েকজনকে নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।
এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রোববার ভারতীয় হাইকমিশনারকে ডেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে বাংলাদেশের কাছে প্রত্যর্পণের অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করেছে।
হাইকমিশনারকে জানানো হয়, ভারতে অবস্থানকারী পলাতক শেখ হাসিনা বাংলাদেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও আসন্ন নির্বাচনকে ব্যাহত করার উদ্দেশ্যে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন এবং তার দলের সমর্থকদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করছেন।
ভারত সরকারকে এসব কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি শরিফ ওসমান হাদীর হত্যাচেষ্টার সঙ্গে জড়িতরা ভারতে পালানোর চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করতে এবং পালিয়ে গেলে দ্রুত গ্রেপ্তার ও বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের জন্য সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।



















