শনিবার , ১৩ জুন ২০২৬ | ৩০শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

আমিরাত থেকে ইরানের বিলিয়ন ডলার পাওয়ার গুঞ্জন

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
জুন ১৩, ২০২৬ ৭:০৫ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের সময় পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্র দেশগুলোর ওপর টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে হামলা চালিয়েছে ইরান। তবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রয়টার্সের চার সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতে টানা এক সপ্তাহ ইরানি হামলার পর আবুধাবি তাদের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। ইরানকে শত শত কোটি ডলারের আর্থিক সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে দেশটিতে ইরানি হামলা বন্ধের একটি গোপন সমঝোতা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই আলোচনার অংশ হিসেবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে বিভিন্ন বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের তেল বিক্রির শত শত কোটি ডলার ছাড় বা মুক্ত করার বিষয়টিও সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে চলমান আলোচনা যখন শেষ পর্যায়ে, ঠিক তখনই আগে প্রকাশ না হওয়া এই সমঝোতার বিষয়টি সামনে এলো।

আর্থিক তহবিলের পরিমাণ ও প্রথম কিস্তি পরিশোধের দাবি

আঞ্চলিক সূত্রগুলোর বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, এই সমঝোতার আওতায় অর্থের অঙ্কের বিষয়ে দুই ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে:

  • ১০ বিলিয়ন ডলারের দাবি: দুটি আঞ্চলিক সূত্র জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের জন্য মোট ১০ বিলিয়ন ডলার ছাড় দিতে সম্মত হয়েছে, যার মধ্যে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ ইতোমধ্যে ইরানকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
  • ২০ বিলিয়ন ডলারের দাবি: অন্য দুটি সূত্রের দাবি, মোট তহবিলের পরিমাণ আসলে ২০ বিলিয়ন ডলার। এই বিশাল অংকের অর্থ ছাড়ের মূল শর্তই হলো সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর ইরানের সমস্ত হামলা চিরতরে বন্ধ করা।
  • উৎসের অস্পষ্টতা: বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে ৩ বিলিয়ন ডলারের প্রথম কিস্তি ইতোমধ্যে ইরান পেয়ে গেছে। তবে এই অর্থের সুনির্দিষ্ট উৎস কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়া হচ্ছে, নাকি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে দুবাইয়ের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা ইরানের নিজস্ব তেল বিক্রির অর্থ থেকে ছাড় করা হচ্ছে, তা রয়টার্স নিশ্চিত করতে পারেনি।

সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্য

শনিবার ভোরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক কড়া বিবৃতিতে ইরানের জন্য ৩ বিলিয়ন ডলার বা অন্য কোনো অর্থ ছাড় দেওয়ার খবরটি সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে। আবুধাবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ধরনের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাধ্যমে কোনো জব্দকৃত বা আটকে থাকা ইরানি তহবিল মুক্ত বা স্থানান্তর করা হয়নি। তবে এর আগে দেশটির একজন কর্মকর্তা জানান, তাদের পররাষ্ট্রনীতি অঞ্চলে উত্তেজনা হ্রাস, স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই পরিচালিত হয়। তিনি আরও বলেন, সংঘাতের প্রভাব থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগকে সংযুক্ত আরব আমিরাত দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে।

এদিকে ওয়াশিংটনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শুক্রবার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তি স্বাক্ষর বা বৈঠকে যোগদানের জন্য ইরানকে কোনো আগাম তহবিল দেওয়া হবে না। সম্ভাব্য চুক্তিটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে তেহরান কেবল তার বাধ্যবাধকতাগুলো পুরোপুরি পূরণ করলেই অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে। হোয়াইট হাউস এবং ইরানি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

কৌশলগত পরিবর্তন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রভাব

এই সমঝোতাটি যুদ্ধের বেশিরভাগ সময়জুড়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরানের মধ্যকার প্রকাশ্য শত্রুতা থেকে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর আগে ক্রমাগত ইরানি হামলায় দুবাইয়ের হোটেলগুলো খালি হয়ে গিয়েছিল, বহু প্রবাসী দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল এবং একটি নিরাপদ বৈশ্বিক ব্যবসায়িক কেন্দ্র হিসেবে দুবাইয়ের যে আন্তর্জাতিক সুনাম ছিল, তা মারাত্মকভাবে নড়বড়ে হয়ে পড়েছিল।

সমঝোতার সম্ভাব্য শর্তসমূহকৌশলগত সুবিধা ও প্রভাব
হামলা বন্ধ ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়: অর্থ প্রদানের বিনিময়ে ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বন্ধ করবে। একই সঙ্গে দুই দেশ গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করবে।রেড লাইন রক্ষা: এই ব্যবস্থার ফলে কোনো পক্ষকেই তাদের ঘোষিত ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত অবস্থান থেকে সরতে হবে না। ইরান যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবে, আবার যুক্তরাষ্ট্রও সরাসরি অর্থ না দেওয়ার অবস্থানে অনড় থাকতে পারবে।
অন্যান্য আরব দেশের সঙ্গে যোগাযোগ: এই সফল মডেলের পর ইরান একই ধরনের সমঝোতার জন্য উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্তত আরও দুটি আরব দেশের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে।নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার: সংযুক্ত আরব আমিরাত তার নিজস্ব নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক কেন্দ্র হিসেবে দুবাইয়ের অবস্থানকে পুনরায় শক্তিশালী করতে পারবে।

দুবাইয়ে আটকে থাকা সম্পদ ও হরমুজ প্রণালির সংযোগ

এই পুরো সমঝোতা প্রক্রিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দুবাই, যা দীর্ঘদিন ধরে ইরানের জন্য একটি প্রধান অর্থনৈতিক সংযোগস্থল হিসেবে কাজ করছে। দুবাইয়ের বিভিন্ন ব্যাংকে বহু বছর ধরে বিপুল পরিমাণ ইরান-সংশ্লিষ্ট অর্থ জমা থাকলেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে তা আটকে আছে। মার্কিন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো বিদেশি ব্যাংক নিষিদ্ধ তালিকাভুক্ত ইরানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লেনদেন করলে সেটি মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি ইরানি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, এই সম্পদগুলো মুক্ত করার বিষয়টি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালি’-তে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এর আগে গত ১১ এপ্রিল এক জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্র দাবি করেছিল যে যুক্তরাষ্ট্র কাতার ও অন্যান্য দেশের ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের কিছু সম্পদ মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে, যদিও একজন মার্কিন কর্মকর্তা দ্রুতই সেই দাবি নাকচ করে দিয়েছিলেন। তবে গত সপ্তাহে ইরানের প্রভাবশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (IRGC) পরিচালকের আবুধাবি সফর এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শেখ তাহনুন বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠকের পর এই আলোচনা দ্রুত গতি পায়।

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত