বৃহস্পতিবার , ১১ জুন ২০২৬ |
  1. অপরাধ
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. এভিয়েশন
  6. কৃষি
  7. ক্যাম্পাস
  8. খেলাধুলা
  9. ছবি
  10. জনদুর্ভোগ
  11. জনপ্রিয়
  12. জাতীয়
  13. ডেঙ্গু
  14. দুর্ঘটনা
  15. ধর্ম

বোমা হামলা বন্ধ করতে ফোন করেছিল ইরান: ট্রাম্প

প্রতিবেদক
অনলাইন ডেস্ক
জুন ১১, ২০২৬ ৮:৪৫ পূর্বাহ্ণ

Spread the love

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাত এক নজিরবিহীন ও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। বুধবার (১০ জুন) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে (Fox News) দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, চলমান মার্কিন বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধ করার জন্য ইরানের শীর্ষস্থানীয় নেতারা তাঁকে ফোন করে আকুল অনুরোধ জানিয়েছিলেন। ট্রাম্প আরও জানান, সর্বশেষ সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অভ্যন্তরে বিভিন্ন কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু লক্ষ্য করে মোট ৪৯টি শক্তিশালী টমাহক (Tomahawk) ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। একই সঙ্গে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ওয়াশিংটনের দেওয়া কঠোর শর্তসমূহ তেহরান যদি অবিলম্বে মেনে না নেয়, তবে আগামী রাতেও ইরানের ওপর এর চেয়েও ব্যাপক ও বিধ্বংসী হামলা চালানো হবে।

ট্রাম্পের দাবিকে ‘ভিত্তিহীন ও মিথ্যা’ আখ্যা দিয়ে আইআরজিসির প্রত্যাখ্যান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই চাঞ্চল্যকর দাবিটি প্রকাশের পরপরই তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ (IRNA) পরিবেশিত তথ্য অনুযায়ী, তেহরান কখনো কোনো অবস্থাতেই হামলা বন্ধের আকুতি নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে যোগাযোগ করেনি। আইআরজিসি তাদের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছে:

  • সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন দাবি: ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা হামলা বন্ধের জন্য ট্রাম্পের কাছে ফোন বা কোনো মাধ্যমে তদবির করেছেন এমন দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, কাল্পনিক এবং জঘন্য মিথ্যা।
  • যুদ্ধের দায় এড়ানোর কৌশল: ওয়াশিংটন আসলে বিশ্ববাসীর সামনে নিজেদের আগ্রাসী রূপ লুকাতে এবং এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মূল দায় এড়ানোর জন্য এমন সস্তা ও মনগড়া অজুহাত তৈরি করছে।

দুই দেশের পাল্টাপাল্টি বড় ধরনের সামরিক হামলা

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরাসহ বিভিন্ন বিশ্বস্ত কূটনৈতিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত কয়েকদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে শুরু হওয়া এই সংঘাত বর্তমানে সর্বাত্মক যুদ্ধের রূপ নিয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, বুধবার (১০ জুন) গভীর রাতে সরাসরি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সুনির্দিষ্ট নির্দেশে ইরানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে এই বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্যমতে, এই তীব্র হামলাটি ছিল মূলত মার্কিন স্বার্থের বিরুদ্ধে ‘ইরানের অযৌক্তিক ও অব্যাহত আগ্রাসনের’ একটি সমুচিত ও বাধ্যতামূলক জবাব।

অন্যদিকের, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই বিধ্বংসী হামলার তীব্র পাল্টা জবাব দেওয়ার দাবি করেছে ইরান। আইআরজিসির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তারা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্য গুঁড়িয়ে দিতে বাহরাইন, কুয়েত এবং জর্ডানে অবস্থিত বেশ কয়েকটি প্রধান মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে একযোগে শক্তিশালী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে তারা বিশ্ববাণিজ্যের প্রধান নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে অবস্থানরত দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজেও সফলভাবে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

সর্বশেষ - অপরাধ