ইরান-ওমান উপসাগরসংলগ্ন কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর কাছে একটি মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে ইরান, এমনটাই অভিযোগ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কঠোর পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। হোয়াইট হাউস এবং মার্কিন সামরিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার পর মার্কিন সেনাবাহিনীর অত্যাধুনিক অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের দুই ক্রু সদস্য বা পাইলটকে একটি আধুনিক মানববিহীন সামুদ্রিক ড্রোনের (Unmanned Surface Vessel) সহায়তায় অত্যন্ত দ্রুততার সাথে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত দুই সেনা সদস্যই বর্তমানে সম্পূর্ণ নিরাপদ আছেন এবং তারা এই ঘটনায় কোনো প্রকার আঘাত পাননি।
পাইলটদের নিরাপত্তা ও ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া
ঘটনার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ (Truth Social)-এ দেওয়া এক পোস্টে তাঁর ক্ষোভ ও পরবর্তী পদক্ষেপের কথা জানান:
- ক্রু সদস্যদের অবস্থা: ট্রাম্প তাঁর পোস্টে লেখেন, “দুইজন পাইলট এতে জড়িত ছিলেন, তারা দুজনই নিরাপদ ও আহত নন।”
- পাল্টা জবাবের ঘোষণা: পাইলটরা সুরক্ষিত থাকলেও এই ঘটনাকে হালকাভাবে নিচ্ছে না ওয়াশিংটন। ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “প্রয়োজনের তাগিদে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই এ হামলার জবাব দিতে হবে।”
- ঘটনার বিবরণ: তিনি আরও দাবি করেন যে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক অ্যাপাচি হেলিকপ্টার গুলি করে ভূপাতিত করেছে, যা মূলত আন্তর্জাতিক জলসীমার অংশ হরমুজ প্রণালীর আকাশে নিয়মিত টহল দিচ্ছিল।
সেন্টকমের সফল উদ্ধার অভিযান
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (ইউএস সেন্টকম) এই রুদ্ধশ্বাস উদ্ধার অভিযানের একটি বিশদ বিবরণ প্রকাশ করেছে। সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী:
- সময়কাল: সোমবার স্থানীয় সময় রাত আনুমানিক ৭টা ৩৩ মিনিটে এই বিশেষ উদ্ধার অভিযানটি পরিচালনা করা হয় এবং দুই সেনা সদস্যকে অক্ষত অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়।
- সমন্বিত অভিযান: এই অত্যন্ত সংবেদনশীল উদ্ধার কাজে সরাসরি নেতৃত্ব দেয় মার্কিন নৌবাহিনী ও ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশন। পাশাপাশি বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর বিভিন্ন আধুনিক ইউনিট এই অপারেশনে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে।
- দ্রুত উদ্ধার: হেলিকপ্টারটি ওমান উপকূল সংলগ্ন অঞ্চলে টহল দেওয়ার সময় বিধ্বস্ত হয় এবং অত্যন্ত দক্ষতার সাথে মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে পুরো উদ্ধার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।
ইরানের পূর্ব সতর্কবার্তা ও চুক্তি ভঙ্গের ইঙ্গিত
হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার এই ঘটনার ঠিক আগেই ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বেশ ইঙ্গিতপূর্ণ ও কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, “আমরা কূটনীতির ভাষা পছন্দ করি, তবে প্রয়োজনে অন্য ভাষাও খুব ভালোভাবে বলতে জানি। চুক্তি ভাঙলে আমরা আমাদের পরিচিত ভাষাতেই জবাব দেব।” তেহরানের পক্ষ থেকে এমন বার্তা দেওয়ার পরই এই সামরিক উত্তেজনা তৈরি হলো। তবে এই স্পর্শকাতর ঘটনায় ওয়াশিংটন ঠিক কী ধরনের সামরিক বা কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা এখনও পরিষ্কার করা হয়নি।



















