মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ করলেও সেই সম্ভাবনাকে একেবারেই বাস্তবসম্মত নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে তেহরান. ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ট্রাম্পের এমন প্রস্তাবকে সরাসরি ‘অবাস্তব’ বলে অভিহিত করেছেন. সম্প্রতি ‘নিউইয়র্ক পোস্ট’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, সুযোগ তৈরি হলে তিনি মোজতবা খামেনির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আগ্রহী এবং পরিস্থিতির অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যতে এমন বৈঠক হতে পারে. তবে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে লেবাননের জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল ‘আল-মায়াদিন’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই সম্ভাবনাকে পুরোপুরি নাকচ করে দিয়ে বলেন, “আমি একটি প্রতিবেদন দেখেছি যেখানে বলা হয়েছে তিনি (ট্রাম্প) বৈঠকের জন্য প্রস্তুত বা একটি বৈঠক করতে চান। আমি মনে করি আমাদের বাস্তববাদী হওয়া উচিত এবং বাস্তব জগতেই চিন্তা করা ও বসবাস করা উচিত।”
সর্বোচ্চ নেতার অবস্থান ও বর্তমান যুদ্ধবিরতি
সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আরও জানান যে, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলোতে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং সমস্ত রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাঁর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে. তবে নিরাপত্তাজনিত চরম সতর্কতার কারণে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মোজতবা খামেনি এখন পর্যন্ত জনসমক্ষে খুব বেশি উপস্থিত হননি. উল্লেখ্য, গত ৮ এপ্রিল কার্যকর হওয়া একটি অত্যন্ত নাজুক যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে ইরান ও তার প্রতিপক্ষদের মধ্যকার দীর্ঘদিনের সংঘাত আপাতত স্থগিত রয়েছে, যদিও দুই পক্ষের মধ্যকার মূল উত্তেজনা এখনও পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি.
পূর্ববর্তী হামলার স্মৃতি ও চলমান কূটনৈতিক উত্তেজনা
একই সাক্ষাৎকারে আরাগচি একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে জানান যে, সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ওপর যখন প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়েছিল, তখন তিনিও সুপ্রিম লিডারের কার্যালয়ের একই ভবনে অবস্থান করছিলেন. তবে তিনি ভবনের অন্য অংশে থাকায় অলৌকিকভাবে সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন. আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর ইরান তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইসরায়েল এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছিল. এরপর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের উদ্যোগে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ আলোচনা শুরু হলেও এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি. ফলে যুদ্ধবিরতি বলবৎ থাকলেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা এখনও পর্দার আড়ালে পুরোপুরি কাটেনি.



















