সিলেটের পুণ্যভূমি হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স (ডেক) খুলে টাকা গণনার সময় দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে লেখা একটি আবেগঘন ও সংবেদনশীল চিঠি পাওয়া গেছে। চিঠিতে দেশে প্রতিনিয়ত ঘটে চলা ধর্ষণ, হত্যাকাণ্ড, শিশু নির্যাতন ও মাদকের ভয়াবহ বিস্তারের বিরুদ্ধে সরকারকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর আহ্বান জানানো হয়েছে। আজ শনিবার (১১ জুলাই, ২০২৬) বেলা সোয়া ১১টার দিকে দরগাহ মসজিদের বারান্দায় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিবিড় উপস্থিতিতে মাজারের দানবাক্স থেকে নগদ অর্থ বের করে গণনা শুরু হলে টাকার স্তূপের ভেতর থেকে এই হাতে লেখা চিঠিটি উদ্ধার করা হয়।
‘গ্রামের ৯০% মানুষ মাদকাসক্ত, থানা ম্যানেজ হয় কীভাবে?’
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে লেখা এই চিঠির শুরুতে অজ্ঞাতনামা লেখক তাঁর আক্ষেপ প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘প্রিয় প্রধানমন্ত্রী, আমি জানি না আমার এই চিঠি শেষ পর্যন্ত আপনার কাছে পৌঁছাবে কি না।’ এরপর দেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে চিঠিতে বলা হয়, “আমরা সবাই মনে-প্রাণে চাই আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ সুন্দর ও নিরাপদভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যাক। তবে দেশে ধর্ষণ, হত্যা ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধের ঘটনায় বছরের পর বছর দৃশ্যমান বিচার না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মনে প্রচলিত বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থা ও ভরসা চরমভাবে কমে যাচ্ছে।”
চিঠিতে বিশেষভাবে দেশের নিষ্পাপ শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত লোমহর্ষক অপরাধের প্রসঙ্গ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়েছে। বর্বরোচিত ঘটনার শিকার শিশু রামিসা, আছিয়া ও হাদীর হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া কোনো ধরনের দীর্ঘসূত্রতায় না ফেলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তা কার্যকর করার জোর দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া দেশে মাদকের মরণকামড় নিয়ে আশঙ্কাজনক তথ্য দিয়ে চিঠির লেখক উল্লেখ করেছেন:
“বিশেষ করে মাদক ব্যবসার সঙ্গে যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত, আমার মনে হয় সমাজে তাদের হাত ও রাজনৈতিক প্রভাব অনেক ওপরে। না হলে তারা অপরাধ করেও বারবার পার পেয়ে যায় এবং থানা পুলিশকে কীভাবে ম্যানেজ করে? আমার তো মনে হয়, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে গ্রামের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষই কোনো না কোনোভাবে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে।”
চিঠির নিচে ‘জুবায়ের’-এর স্বাক্ষর ও মাজার কমিটির অবস্থান
উদ্ধারকৃত এই চিঠির একদম শেষাংশে দেশের প্রতি গভীর টান প্রকাশ করে ‘বাংলাদেশকে ভালোবাসি’ স্লোগান লিখে নিচে মোহাম্মদ জুবায়ের আহমদ নামে এক ব্যক্তির স্বাক্ষর রয়েছে। মাজারের দানবাক্সে নগদ অর্থের সাথে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে এমন স্পর্শকাতর চিঠি পাওয়ার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে দরগাহ বা মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনা তদারকি কমিটির কোনো সদস্যই গণমাধ্যমের সামনে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হননি।
| মাজার আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনা তদারকি কমিটি (২০২৬) | কমিটির পদবি ও সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তা |
| কমিটির চেয়ারম্যান | খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির |
| কমিটির সদস্যবৃন্দ | সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রশাসক রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের শামীম, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি, এসএমপি পুলিশ কমিশনার প্রমুখ। |
| কমিটির সদস্য সচিব | সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি)। |
উল্লেখ্য, মাজারের এই উচ্চপর্যায়ের কমিটিতে সিলেটের মোতোয়াল্লি পরিবারের দুই সদস্য এবং মাজার মাদরাসা ও মসজিদের দুই প্রতিনিধিও যুক্ত রয়েছেন। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দানবাক্স থেকে পাওয়া নগদ অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করার পাশাপাশি উদ্ধারকৃত এই চিঠিটি যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের জন্য সিলেটের জেলা প্রশাসকের দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।


















