ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের উদ্বোধনী দিনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) অধিবেশন শুরু হওয়ার পর স্পিকারের পক্ষ থেকে এই শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। সংসদ সচিবালয় থেকে জানানো হয়েছে, সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত এই শোক প্রস্তাবের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
শোক প্রস্তাবের উল্লেখযোগ্য দিকসমূহ:
- বেগম খালেদা জিয়া: শোক প্রস্তাবে বলা হয়, ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর প্রয়াত হওয়া বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন দেশের তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী এবং গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী। মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশের গণতন্ত্র রক্ষা ও উন্নয়নে তাঁর অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে সংসদ।
- আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব: জাতীয় নেতাদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনের প্রভাবশালী নেতা ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়।
- সাবেক সংসদ সদস্যবৃন্দ: সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ডা. এ. কিউ. এম. বদরুদ্দোজা চৌধুরীসহ মোট ৩১ জন সাবেক সংসদ সদস্যের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব আনা হয়। তাঁদের জীবনবৃত্তান্ত ও রাজনৈতিক কর্মজীবন সংসদে পাঠ করা হয়।
শোক প্রস্তাব উত্থাপনের পর সংসদ কক্ষে পিনপতন নীরবতা নেমে আসে। প্রয়াত সকল ব্যক্তিত্বের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। দীর্ঘ ১৭ বছর পর গঠিত নতুন সংসদের প্রথম কার্যদিবসে এই শোক প্রস্তাব গ্রহণ এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে।



















