দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম কোনো মার্কিন সাবমেরিন থেকে ছোড়া টর্পেডোর আঘাতে ধ্বংস হলো প্রতিপক্ষের একটি আস্ত যুদ্ধজাহাজ। ভারত মহাসাগরে শ্রীলঙ্কার উপকূলের কাছে ইরানের নৌবাহিনীর অন্যতম শক্তিশালী জাহাজ ‘আইআরআইএস ডেনা’ (IRIS Dena) মার্কিন সাবমেরিনের টর্পেডো হামলায় সমুদ্রের তলদেশে হারিয়ে গেছে। পেন্টাগন গত বুধবার এই চাঞ্চল্যকর অভিযানের ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যায় একটি শক্তিশালী টর্পেডো জাহাজটির কাঠামোকে মুহূর্তেই দ্বিখণ্ডিত করে ফেলছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই হামলাকে ‘নীরব মৃত্যু’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, এই অভিযানে বিশ্বখ্যাত ‘মার্ক ৪৮ হেভিওয়েট’ (Mark 48) টর্পেডো ব্যবহার করা হয়েছে। প্রায় ৩৮০০ পাউন্ড ওজনের এই টর্পেডোটি সরাসরি জাহাজে আঘাত না করে এর তলদেশে গিয়ে বিস্ফোরিত হয়, ফলে পানির নিচে তৈরি হওয়া প্রচণ্ড চাপের গ্যাসের বুদ্বুদ জাহাজের মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়। ১৯৪৫ সালের পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র কোনো সরাসরি যুদ্ধে টর্পেডো ব্যবহার করে জাহাজ ডুবিয়েছে। যদিও এর আগে ইরাক বা ইয়েমেন যুদ্ধে সাবমেরিন থেকে ক্রুজ মিসাইল ছোড়া হয়েছে, তবে টর্পেডোর ব্যবহার নৌ-যুদ্ধের ইতিহাসে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শ্রীলঙ্কার উপকূলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, হামলার পর সমুদ্র থেকে ৩২ জন ইরানি নাবিককে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে জাহাজটিতে থাকা বাকি ক্রুদের ভাগ্য এখনো অনিশ্চিত, কারণ ১৮০ জন জনবল নিয়ে এটি পরিচালিত হতো। এই ঘটনা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান ছায়াযুদ্ধকে এখন প্রকাশ্য নৌ-যুদ্ধের দিকে ধাবিত করছে। পেন্টাগনের এই শক্তি প্রদর্শন মূলত মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ক্রমবর্ধমান নৌ-তৎপরতার বিরুদ্ধে একটি চরম সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।
সূত্রঃ নিউইয়র্ক টাইমস



















