দশকব্যাপী পশ্চিমা অবরোধ এবং সাম্প্রতিক বিধ্বংসী সংঘাতের প্রেক্ষাপটে নিজেদের পারমাণবিক অবস্থানে আমূল পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দীর্ঘকাল পারমাণবিক কর্মসূচির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের কথা বললেও বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা তাদের নীতি পুনর্মূল্যায়নে বাধ্য করেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তেহরান এখন থেকে তার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিকে ‘জাতীয় সম্পদ’ হিসেবে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রক্ষা করবে। বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের ‘পারমাণবিক জুজু’ এখন তেহরানের হাতে এক বাস্তব ও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা কৌশলে রূপ নিতে যাচ্ছে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তার এই নতুন সমীকরণে ইরান এখন মস্কো ও বেইজিংয়ের সাথে তাদের পারমাণবিক ও কৌশলগত সহযোগিতা বৃদ্ধির দিকে ঝুঁকছে। সম্প্রতি ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সেন্ট পিটার্সবার্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন, যেখানে পুতিন ইরানকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। অন্যদিকে, পাকিস্তান ও ওমানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা চললেও তা বর্তমানে অচলাবস্থায় রয়েছে। ইরান তাদের জব্দকৃত অর্থ ফেরত এবং পারমাণবিক আলোচনার আগে সামরিক আগ্রাসন বন্ধের নিশ্চয়তা দাবি করলেও ট্রাম্প প্রশাসন তা প্রত্যাখ্যান করেছে। পারমাণবিক এই অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে তা বিশ্ব রাজনীতি ও জ্বালানি বাজারে এক ভয়াবহ অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



















