মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয়তা বজায় রাখলেও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা নিয়ে জাতীয় সংসদে ক্রমেই চাপে পড়ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন থেকেই দলটির অতীত অবস্থান ও দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন জোরালো হয়ে উঠেছে।
সংসদের ভেতরে সরকারি ও বিরোধী—উভয় পক্ষের নেতাদের সমালোচনায় ‘ক্ষমা চাওয়ার’ বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। ফলে একদিকে রাজপথে সক্রিয়তা, অন্যদিকে সংসদে অতীত বিতর্ক—এই দ্বৈত চাপে পড়েছে দলটি।
জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান নিউইয়র্কে এক বক্তব্যে অতীতের ভুলের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেও এ বিষয়ে দলীয়ভাবে স্পষ্ট অবস্থান না আসায় বিতর্ক আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সংসদে সাম্প্রতিক আলোচনায় কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্ব তুলে ধরে জামায়াতের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধকে অন্য কোনো আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করা অন্যায় এবং স্বাধীনতাবিরোধীরা কখনো বিজয়ী হতে পারে না।
এর জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কে কোন দল করবে তা নির্ধারণের অধিকার কারও নেই এবং মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ নিয়ে মন্তব্য করা নাগরিক অধিকারের পরিপন্থী।
এদিকে ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ জামায়াতের ‘দ্বৈত অবস্থান’ নিয়ে প্রশ্ন তুলে সমালোচনা করেন। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকেও দলটির অতীত ভূমিকা নিয়ে কড়া মন্তব্য এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন বাস্তবতায় নিজেদের পুনর্বিন্যাসের চেষ্টা করছে জামায়াত। তবে সংসদে মুক্তিযুদ্ধ-সংক্রান্ত প্রশ্ন ও জবাবদিহির চাপ তাদের রাজনৈতিক কৌশলকে জটিল করে তুলছে।
ইতিহাস বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৯৭১ সালে দলটির ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অতীতের দায় স্বীকার ও স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণই দলটির ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।



















