ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা নিরসনে একটি কার্যকর চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে হোয়াইট হাউস। বুধবার (১৫ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলাইন লেভিট সাংবাদিকদের জানান, সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার সরাসরি আলোচনার জন্য পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদকে বেছে নেওয়া হতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন যে, হোয়াইট হাউস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না করা পর্যন্ত কোনো বিষয়কেই চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া যাবে না।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই মার্কিন প্রতিনিধিদল আবারও সেখানে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। এর আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের দল ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে বসেছিল। যদিও সেই আলোচনা থেকে তাৎক্ষণিক কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি, তবে দুই পক্ষই আলোচনার পথ খোলা রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে। বর্তমানে পাকিস্তান ও ওমানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চলছে, যা স্থায়ী শান্তিতে রূপান্তরের চেষ্টা চলছে।
ইসলামাবাদে এই সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার আলোচনাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে, কারণ এতে ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মুক্তি এবং পারমাণবিক কর্মসূচির মতো স্পর্শকাতর ইস্যুগুলো গুরুত্ব পেতে পারে। হোয়াইট হাউসের এই ইতিবাচক মনোভাব মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে একটি স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি ইসলামাবাদে দুই পক্ষ একটি সাধারণ ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারে, তবে তা কেবল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ক্ষেত্রেই নয়, বরং সমগ্র বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্যও বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা



















