যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় সহায়তার অভিযোগে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের পাঁচটি দেশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে ইরান। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি সোমবার এক চিঠিতে অভিযোগ করেন যে, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দিয়ে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে। ইরানের দাবি, এই দেশগুলোর সরাসরি মদদে তাদের ওপর আগ্রাসন চালানো হয়েছে, যার ফলে সৃষ্ট সমস্ত বস্তুগত ও নৈতিক ক্ষতির দায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকেই নিতে হবে।
ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনের বরাতে চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পরিচালিত হামলায় এই পাঁচটি দেশের মাটি ব্যবহার করা হয়েছিল। তেহরান মনে করে, প্রতিবেশী দেশগুলোর এই অবস্থান আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতার চরম লংঘন। তবে এই দেশগুলো এখনো ইরানের দাবির প্রেক্ষিতে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। দীর্ঘ ৩৯ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর বর্তমানে ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি চললেও, ইরানের এই আইনি ও আর্থিক দাবি মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে পুনরায় ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
গত সপ্তাহে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে এই সংকট নিরসনে ইরান ও মার্কিন প্রতিনিধিদের মধ্যে দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো কার্যকর সমাধান আসেনি। গত ফেব্রুয়ারির হামলায় হতাহত ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যে উত্তাপ ছড়িয়েছিল, যুদ্ধবিরতির মাঝেও তা স্তিমিত হচ্ছে না। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ক্ষতিপূরণের এই নতুন দাবি প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে ইরানের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলবে এবং শান্তি প্রক্রিয়ায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি


















