পাকিস্তানের ইসলামাবাদে টানা ২১ ঘণ্টা ধরে চলা ঐতিহাসিক ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা শেষ পর্যন্ত কোনো ফল ছাড়াই শেষ হয়েছে। দীর্ঘ বৈঠক এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনার পরও দুই দেশের মধ্যে থাকা গভীর মতপার্থক্য ঘোচানো সম্ভব হয়নি। আজ রবিবার (১২ এপ্রিল, ২০২৬) সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আনুষ্ঠানিকভাবে এই ব্যর্থতার কথা জানান।
বিবিসি’র প্রতিবেদন ও সংবাদ সম্মেলনের মূল তথ্যগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. সমঝোতা না হওয়ার কারণ
জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সুনির্দিষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলো ইরানের কাছে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছিল। তবে ইরান সেই শর্তগুলোতে রাজি না হওয়ায় কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
- দীর্ঘ আলোচনা: টানা ২১ ঘণ্টা ধরে চলা এই সংলাপেও দুই পক্ষ তাদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি।
- দুঃসংবাদ: কোনো সমঝোতা ছাড়া ফিরে যাওয়াকে একটি ‘দুঃসংবাদ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট।
২. পাকিস্তানের ভূমিকা ও আতিথেয়তা
বৈঠক ব্যর্থ হলেও আয়োজক দেশ হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন জেডি ভ্যান্স।
- কৃতজ্ঞতা প্রকাশ: তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং দেশটির ফিল্ড মার্শালের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানান।
- আতিথেয়তা: পাকিস্তানের ‘অসাধারণ আতিথেয়তা’র প্রশংসা করে তিনি বলেন, আলোচনায় যদি কোনো ঘাটতি থেকে থাকে, তার জন্য পাকিস্তান কোনোভাবেই দায়ী নয়; তারা তাদের সাধ্যমতো সেরা পরিবেশ নিশ্চিত করেছিল।
৩. বর্তমান পরিস্থিতি ও অনিশ্চয়তা
সমঝোতা না হওয়ায় মার্কিন প্রতিনিধিদল আজই পাকিস্তান ছাড়ার পরিকল্পনা করছে। এর ফলে:
- যুদ্ধবিরতির মেয়াদ: গত ৮ এপ্রিল শুরু হওয়া দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী ২২ এপ্রিল শেষ হবে। এই সময়ের মধ্যে নতুন কোনো অগ্রগতি না হলে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
- জ্বালানি বাজার: হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পারায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে।
৪. ইরানের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া
ইরানি প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে ইরানি স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ জানিয়েছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তাদের আস্থার অভাব রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, লেবানন পরিস্থিতি এবং জব্দকৃত অর্থ ছাড়ের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা না পাওয়াই এই ব্যর্থতার অন্যতম কারণ।
এই বৈঠকটি ব্যর্থ হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা এখন চরম ঝুঁকির মুখে। বিশেষ করে ২১ এপ্রিলের পর ইরান বা যুক্তরাষ্ট্র কোনো কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেয় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ব।
সূত্র: বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান



















