ইসলামাবাদে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে এসে ইরানের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের বরাতে জানা গেছে, সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন।
কালিবাফের বক্তব্যের মূল দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. আস্থার সংকটের কারণ
কালিবাফ স্পষ্ট করে বলেছেন যে, ইরান আলোচনার টেবিলে সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে এলেও ওয়াশিংটনকে বিশ্বাস করা তাদের জন্য কঠিন। এর কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন:
- অতীতের অভিজ্ঞতা: এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে দুবার শান্তি আলোচনা চলাকালীন ইরানি স্বার্থের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
- যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ: আলোচনা চলাকালেই মধ্যপ্রাচ্যে অসংখ্য যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন, যা মূলত ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা ও তাতে মার্কিন সমর্থনের দিকে ইঙ্গিত করে।
২. চুক্তির শর্ত ও হুঁশিয়ারি
ইরানি স্পিকার আলোচনার সাফল্যের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সামনে দুটি পথ খোলা রেখেছেন:
- প্রকৃত চুক্তির আহ্বান: যুক্তরাষ্ট্র যদি প্রতারণার আশ্রয় না নিয়ে একটি প্রকৃত চুক্তির জন্য প্রস্তুত থাকে এবং ইরানি জনগণের ন্যায্য অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়, তবে ইরানও পূর্ণ প্রস্তুতি দেখাবে।
- প্রতারণার পরিণাম: কালিবাফ সতর্ক করে বলেছেন, ওয়াশিংটন যদি এই আলোচনাকে নিছক ‘শক্তি প্রদর্শন’ বা ‘প্রতারণার কৌশল’ হিসেবে ব্যবহার করতে চায়, তবে তেহরান তার নিজস্ব সক্ষমতা ব্যবহার করে জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেবে।
৩. বর্তমান পরিস্থিতির তাৎপর্য
কালিবাফের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন:
- ইসলামাবাদে রেড জোন সিল: আলোচনার পরিবেশ বজায় রাখতে পাকিস্তানের এলিট ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।
- চীনের সমরাস্ত্র বিতর্ক: সিএনএন-এর প্রতিবেদনে ইরানে চীনের ‘ম্যানপ্যাডস’ পাঠানোর খবর নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
- লেবানন ফ্রন্ট: লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকায় ইরান ইতিমধ্যে আলোচনার পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
কালিবাফের এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, তেহরান কেবল আলোচনার খাতিরে আলোচনায় বসছে না। তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা গ্যারান্টি এবং লেবাননসহ আঞ্চলিক ফ্রন্টগুলোতে যুদ্ধবিরতির কার্যকর প্রতিফলন দেখতে চায়। আজকের এই প্রথম অধিবেশনের ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা।
সূত্র: বিবিসি



















