কাতারের রাজধানী দোহায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত পরোক্ষ কারিগরি আলোচনা শুরু হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনা নিরসন ও দীর্ঘদিনের বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো সুরাহার লক্ষ্যে আয়োজিত এই দ্বিপাক্ষিক সংলাপে কাতার ও পাকিস্তান যৌথভাবে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় রয়েছে। আজ বুধবার (১ জুলাই) রয়টার্সকে একটি নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, আলোচনাটি বর্তমানে সম্পূর্ণ প্রযুক্তিগত ও কারিগরি পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রয়েছে এবং দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে কোনো ধরনের মুখোমুখি বা সরাসরি বৈঠকের পরিকল্পনা নেই।
৩টি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন ও কুশনারের মধ্যস্থতা
সূত্রটি জানায়, আলোচনার সুবিধার্থে দোহায় অন্তত তিনটি পৃথক ওয়ার্কিং গ্রুপ বা কার্যনির্বাহী দল গঠন করা হয়েছে। এই গ্রুপগুলো মূলত তিনটি প্রধান এজেন্ডা নিয়ে কাজ করছে:
- পারমাণবিক ইস্যু: ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সীমা নির্ধারণ ও পূর্ববর্তী চুক্তির শর্তাবলি পর্যালোচনা।
- কূটনৈতিক বিষয়: দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক দূরত্ব কমিয়ে আনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা রক্ষা।
- অর্থায়ন ও জব্দকৃত তহবিল: বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যাংকে ইরানের জব্দকৃত বিশাল তহবিল বা অর্থ ফেরত দেওয়ার আইনি ও প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। তাঁরা এই পরোক্ষ আলোচনার মূল ভিত্তি ও রূপরেখা তৈরি করেছেন বলে জানা গেছে, তবে তাঁরা নিজেরা সরাসরি এই কারিগরি আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন না।
সরাসরি আলোচনার দাবি প্রত্যাখ্যান তেহরানের
চলতি মাসের শুরুর দিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত থামাতে তেহরান ও ওয়াশিংটন একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারকে ($MoU$) সম্মত হয়, যার ধারাবাহিকতায় এই বৈঠকের আয়োজন। তবে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, সমঝোতা অনুসারে মঙ্গলবারই দুই দেশের প্রতিনিধিরা সরাসরি আলোচনার টেবিলে বসবেন। ইরান ট্রাম্পের এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে।
ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তারা কোনো অবস্থাতেই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সরাসরি কোনো সংলাপে জড়াবে না; কেবল মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমেই এই পরোক্ষ আলোচনা প্রক্রিয়া সচল রাখা হবে। কাতার সরকারও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে যে, বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে কোনো উচ্চপর্যায়ের সরাসরি বৈঠকের পরিকল্পনা নেই। কিছুদিন আগে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পর উভয়পক্ষ একে অপরকে দোষারোপ করলেও, স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুসারে শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে দুই দেশই ইতিবাচক সাড়া দিচ্ছে।


















