চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম আইকনিক ব্যক্তিত্ব, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল, ২০২৬) ঘোষণা করা হবে। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই রায় প্রদান করবেন।
আবু সাঈদ হত্যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ট্রাইব্যুনালের অন্যান্য কার্যক্রম নিচে তুলে ধরা হলো:
১. আবু সাঈদ হত্যা মামলা ও আসামিদের অবস্থান
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই পার্ক মোড়ে পুলিশের গুলিতে আবু সাঈদের মৃত্যুর ঘটনাটি ছিল পুরো আন্দোলনের এক টার্নিং পয়েন্ট।
- মোট আসামি: ৩০ জন। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদসহ ২৪ জনই পলাতক।
- গ্রেপ্তার আসামি: সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, পুলিশের এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়সহ মোট ৬ জন বর্তমানে কারাগারে আছেন।
- প্রসিকিউশনের দাবি: চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, তদন্তে আসামিদের বিরুদ্ধে অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং তারা সর্বোচ্চ শাস্তি আশা করছেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষ সব অভিযোগ অস্বীকার করে খালাস দাবি করেছে।
২. জিয়াউল আহসানের মামলা: পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী
সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে গুম ও খুনের মামলায় প্রসিকিউশনের তৃতীয় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন মুন্নী আক্তার।
- নতুন তথ্য: মুন্নী আক্তার দাবি করেছেন, তাঁর স্বামী মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট নজরুল ইসলাম পিলখানা হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী হওয়ায় তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।
- পরবর্তী তারিখ: বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-১ এই মামলার পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ১৬ এপ্রিল ধার্য করেছেন।
৩. ট্রাইব্যুনাল অবমাননায় কঠোর নির্দেশ
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে নিয়ে ফেসবুকে অবমাননাকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এম এইচ পাটোয়ারী বাবুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এই আদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা ও ট্রাইব্যুনালের মর্যাদা রক্ষায় নজিরবিহীন কঠোরতা দেখানো হয়েছে:
- লাইক ও শেয়ারকারীদের গ্রেপ্তার: ওই বিতর্কিত পোস্টে যারা লাইক দিয়েছেন, শেয়ার করেছেন বা অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন, তাদের সবাইকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- ডিভাইস জব্দ: সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ডিজিটাল ডিভাইসগুলো জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল-১।
৪. আবহাওয়া ও নিরাপত্তা সতর্কতা
আজকের এই ঐতিহাসিক রায়কে কেন্দ্র করে এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া কালবৈশাখীর সতর্কবার্তার কারণে আদালত পাড়ায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ভোর থেকেই ঢাকার আকাশ মেঘলা এবং উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আবু সাঈদ হত্যার রায়টি কেবল একটি আইনি প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের বিচার পাওয়ার পথে প্রথম বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।



















