ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১২তম দিনে আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল, ২০২৬) একটি বড় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জারি করা ২১টি অধ্যাদেশ কোনো পরিবর্তন ছাড়াই (অবিকল) বিল আকারে সংসদে পাস করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এই বিলগুলোতে সম্মতি প্রদান করলেই এগুলো পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত হবে।
আজকের সংসদীয় কার্যক্রমের প্রধান বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. অবিকল পাস হওয়া গুরুত্বপূর্ণ বিলসমূহ
অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রমকে স্থায়িত্ব দিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিলগুলো পাস করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বিল হলো:
- স্থানীয় সরকার ও কৃষি: ‘জেলা পরিষদ (সংশোধন) বিল’, ‘পৌরসভা (সংশোধন) বিল’, ‘ইউনিয়ন পরিষদ (সংশোধন) বিল’ এবং ‘ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা বিল’।
- শ্রম ও অভিবাসন: ‘বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) বিল’ এবং ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী (সংশোধন) বিল’।
- জ্বালানি ও প্রযুক্তি: ‘বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন) বিল’, ‘টেলিযোগাযোগ (সংশোধন) বিল’ এবং ‘বাংলাদেশ গ্যাস (সংশোধন) বিল’।
- অন্যান্য: ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) বিল’ এবং ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন বিল’।
২. তিনটি অধ্যাদেশ বাতিল ও রহিতকরণ বিল
২১টি বিল পাসের পাশাপাশি সংসদ তিনটি নির্দিষ্ট অধ্যাদেশ বাতিল করে রহিতকরণ বিল পাস করেছে:
- সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল, ২০২৬: এর মাধ্যমে ২০২৪ সালের সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশটি বাতিল করা হলো।
- সুপ্রিম কোর্ট বিচারক নিয়োগ (রহিতকরণ) বিল, ২০২৬: ২০২৫ সালের বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত অধ্যাদেশটি রহিত করা হয়েছে।
- জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল, ২০২৬: এই বিলের মাধ্যমে মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত পুরনো বিধান পুনঃপ্রচলন করা হয়েছে।
৩. পাসের প্রক্রিয়া ও গুরুত্ব
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং তাঁদের পক্ষে প্রতিমন্ত্রীদের উত্থাপিত বিলগুলো আজ কণ্ঠভোটে পাস হয়। সাধারণত সংসদের অবর্তমানে জরুরি প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করেন, যা সংসদ বসার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিল আকারে পাস করতে হয়। আজকের এই গণ-বিল পাসের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া প্রশাসনিক ও আইনি সংস্কারগুলো গণতান্ত্রিকভাবে বৈধতা পেল।



















