ইরানের পরমাণু কেন্দ্রে সাম্প্রতিক হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইসরায়েলের বন্দরনগরী হাইফাসহ বিভিন্ন এলাকায় অন্তত আট দফায় ভয়াবহ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তেহরান। এই হামলায় হাইফা শহরের একটি ভবন বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত দুইজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও দুইজন নিখোঁজ রয়েছেন।
ইসরায়েলের ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিস এবং হোম ফ্রন্ট কমান্ডের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বর্তমান পরিস্থিতির আপডেট নিচে তুলে ধরা হলো:
১. হাইফায় ক্ষয়ক্ষতি ও উদ্ধার অভিযান
- নিহত ও নিখোঁজ: ইরান থেকে ছোঁড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি একটি বহুতল ভবনে আঘাত হানলে সেটি ধসে পড়ে। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার উদ্ধার তৎপরতার পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো নিখোঁজ থাকা অন্য দুজনকে খুঁজে বের করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
- আহত: তেল আবিব এবং মধ্য ইসরায়েলের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
২. ইরানের ‘আট দফার’ হামলা
ইরানের দাবি অনুযায়ী, তাদের পরমাণু স্থাপনায় ইসরায়েলি হামলার জবাবে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তুগুলো ছিল:
- হাইফা বন্দরনগরী: যেখানে সবচেয়ে বেশি জানমালের ক্ষতি হয়েছে।
- তেল আবিব: বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্রগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
- মধ্য ইসরায়েল: বেশ কিছু সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়েছে।
৩. মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের নতুন মোড়
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাত এখন চরম আকার ধারণ করেছে।
- ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা: বিশ্লেষকদের মতে, ইরান তাদের উন্নত ‘ফাত্তাহ’ বা সমমানের হাইপারসোনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে থাকতে পারে, যা ইসরায়েলের ‘অ্যারো’ বা ‘ডেভিডস স্লিং’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম হয়েছে।
- আমেরিকার অবস্থান: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং ইসরায়েলের প্রতিরক্ষায় সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
৪. জ্বালানি ও অর্থনৈতিক প্রভাব
এই পাল্টাপাল্টি হামলার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় এবং যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ায় বাংলাদেশেও এর প্রভাব অনুভূত হচ্ছে, যা ইতোমধ্যে দেশের পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে নতুন সরকারি নির্দেশনার প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে।
পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত অস্থির এবং যেকোনো সময় আরও বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) জানিয়েছে, তারা এই হামলার “উপযুক্ত ও কঠোর” জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সূত্র : টাইমস অব ইসরায়েল।



















