দীর্ঘ ২৫ দিন বন্ধ থাকার পর দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) পুনরায় উৎপাদনে ফিরেছে। শুক্রবার (৮ মে) ভোর ৬টা থেকে শোধনাগারটিতে পূর্ণদমে উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু হয়। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় এবং পর্যাপ্ত কাঁচামালের অভাবে গত ১৪ এপ্রিল এর উৎপাদন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছিল। বুধবার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো চীনা জাহাজ ‘এমটি নাইমনিয়া’ থেকে খালাস করা ১ লাখ টন সৌদি ক্রুড অয়েল দিয়ে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা দেশের জ্বালানি সংকটে বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উৎপাদন সক্ষমতা ও মজুত পরিস্থিতি ইস্টার্ন রিফাইনারির কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, বর্তমানে আসা ১ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল পরিশোধন করে ২৬ হাজার টন ডিজেল, ১৬ হাজার টন পেট্রোল এবং ৮ হাজার টন অকটেনসহ মোট ১৩ ধরণের জ্বালানি পাওয়া যাবে। এই কাঁচামাল দিয়ে শোধনাগারটি আগামী ২৫ দিন সচল রাখা সম্ভব হবে। তবে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরবর্তী ২০-২৫ দিনের মধ্যে নতুন চালান আসা জরুরি। বর্তমানে ইআরএল-এ মোট ২ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল মজুত রাখার সক্ষমতা রয়েছে, যা নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিকল্প রুটে সরবরাহ নিশ্চিতের প্রচেষ্টা মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সরকার এখন বিকল্প রুট ও নিরাপদ বন্দর ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে। এর অংশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দর থেকে আরও এক লাখ টন তেল কেনার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে, যা পারস্য উপসাগরের বাইরে হওয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও নিরাপদ থাকবে। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি) জানিয়েছে, মে মাসের শেষ নাগাদ এই নতুন চালানটি চট্টগ্রাম পৌঁছাবে। বর্তমানে যখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাষ্ট্র সংস্কার এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেইজিংয়ে বিনিয়োগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করছেন, তখন দেশের এই অভ্যন্তরীণ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।



















