বুধবার (১ এপ্রিল, ২০২৬) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ দেশের মৎস্য সম্পদ পুনরুদ্ধার ও প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র রক্ষায় সরকারের নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। সরকারি দলের সদস্য আনিসুর রহমানের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, মাছের বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে দেশের নদী, বিল ও খালে বিশেষ মৎস্য অভয়াশ্রম গড়ে তোলা হবে।
মন্ত্রীর বক্তব্যের প্রধান দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র সুরক্ষা: শিং, টাকি ও বোয়ালসহ অনেক দেশীয় সুস্বাদু মাছ এখন বিলুপ্তপ্রায়। এসব মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্রগুলো পুনরুদ্ধারে জলাভূমি ও জলপথে সুরক্ষিত অভয়াশ্রম তৈরি করা হবে, যেখানে নির্দিষ্ট সময়ে মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
- ইলিশের মডেল অনুসরণ: বর্তমানে ইলিশ প্রজনন মৌসুমে যেভাবে দুই মাস মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকে, সেই একই মডেল এখন দেশের অভ্যন্তরীণ অন্যান্য জলাশয় এবং অগভীর সমুদ্র অঞ্চলেও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধ থাকলে ডিম নষ্ট হবে না এবং মাছের উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
- জেলেদের জন্য সহায়তা: প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধ থাকাকালীন জেলেদের জীবনযাত্রার মান বজায় রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে চাল ও আর্থিক সহায়তা প্রদান অব্যাহত থাকবে বলে মন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন।
- হাওর ও স্বাদু পানির পরিকল্পনা: কেবল নদী নয়, হাওর ও অন্যান্য স্বাদু পানির জলাশয়েও মৌসুমি নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। এর মাধ্যমে জলাশয়গুলোতে মাছের সেই পুরনো ঐতিহ্যবাহী প্রাচুর্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কৃষিমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, অপরিকল্পিতভাবে মাছ ধরা এবং প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস হওয়ার কারণেই দেশি মাছের সংকট তৈরি হয়েছে। নতুন এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে দেশের পুকুর, বিল ও নদীগুলো আবারও মাছে সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে।



















