স্পেন সরকার সম্প্রতি দেশটিতে বসবাসরত প্রায় পাঁচ লাখ অনথিভুক্ত অভিবাসীকে আইনি মর্যাদা দেওয়ার একটি ঐতিহাসিক পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। এই উদ্যোগের ফলে অভিবাসীরা প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে দেশটির শ্রমবাজারে যুক্ত হওয়ার বৈধ অধিকার পাবেন। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের নেতৃত্বাধীন জোট সরকার এই মানবিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপটি গ্রহণ করেছে, যা বর্তমানে ইউরোপের অন্যান্য দেশের কঠোর অভিবাসন নীতির একদম বিপরীত। দেশটির সরকার মনে করে, এই অভিবাসীরা ইতিমধ্যে স্পেনের অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন এবং তাদের বৈধতা দেওয়া হলে তারা কর প্রদান ও সামাজিক নিরাপত্তার বলয়ে যুক্ত হয়ে জাতীয় সমৃদ্ধি আরও বৃদ্ধি করতে পারবেন।
এই নতুন নিয়মের আওতায় যারা ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারির আগে স্পেনে প্রবেশ করেছেন এবং আবেদন করার সময় অন্তত পাঁচ মাস সেখানে বসবাসের প্রমাণ দিতে পারবেন, তারা বৈধতার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। তবে আবেদনকারীদের অবশ্যই কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড থাকা চলবে না। আগামী ১৬ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে জুনের শেষ পর্যন্ত এই আবেদন প্রক্রিয়া চলবে। সফল আবেদনকারীরা প্রাথমিকভাবে এক বছরের জন্য বসবাসের অনুমতি পাবেন, যা পরবর্তী চার বছরের জন্য নবায়নযোগ্য হবে। বিশেষ করে শিশু ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য পাঁচ বছরের দীর্ঘমেয়াদি পারমিটের সুযোগ রাখা হয়েছে, যাতে পারিবারিকভাবে তারা সেখানে থিতু হতে পারেন।
প্রধানমন্ত্রী সানচেজ এই সিদ্ধান্তকে ‘নৈতিক দায়িত্ব’ এবং ‘অর্থনৈতিক প্রয়োজনীয়তা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, স্পেনের ক্রমবর্ধমান বার্ধক্যজনিত সমস্যা এবং শ্রমবাজারের ঘাটতি মেটাতে এই দক্ষ ও পরিশ্রমী জনগোষ্ঠীকে মূলধারায় আনা জরুরি। এই পদক্ষেপে স্থানীয় গির্জা এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনগুলো বড় ধরনের সমর্থন দিয়েছে। যেখানে বিশ্বের অনেক শক্তিশালী দেশ অভিবাসীদের ফেরত পাঠাতে ব্যস্ত, সেখানে স্পেন তাদের আপন করে নেওয়ার মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করল।



















