রাজশাহী অঞ্চলে শিশুদের মাঝে সংক্রামক রোগ ‘হাম’ (Measles) আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যু ও অপর্যাপ্ত আইসোলেশন ব্যবস্থা নিয়ে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) পরীক্ষায় সংগৃহীত নমুনার প্রায় ২৯ শতাংশের শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতি ও হাসপাতালের বর্তমান চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:
- শনাক্তের হার ও নমুনা পরীক্ষা: মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুরা ভর্তি হতে শুরু করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ১৫৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৪৪ জনের শরীরে হাম পজিটিভ পেয়েছে। রামেক হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শাহিদা ইয়াসমিন জানিয়েছেন, অনেক শিশুর শরীরেই একই ধরনের লক্ষণ স্পষ্ট।
- মৃত্যুর পরিসংখ্যান: চলতি মাসে রামেক হাসপাতালে হামে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ১২ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে আইসিইউতে নেওয়ার পরও ৯ জন শিশুকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালেও এই মাসে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃত শিশুদের অনেকের বয়সই ৫ থেকে ৯ মাসের মধ্যে।
- আইসোলেশন ও অব্যবস্থাপনা: সংক্রামক রোগ হওয়া সত্ত্বেও রামেক হাসপাতালের সাধারণ ওয়ার্ডে অন্য শিশুদের সাথেই হাম আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে তাদের সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়, কিন্তু বাস্তবে সাধারণ ওয়ার্ডেই অনেক শিশুকে ভর্তি থাকতে দেখা গেছে।
- নতুন পদক্ষেপ: পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় শনিবার (২৮ মার্চ) এক জরুরি বৈঠক শেষে রামেক হাসপাতালের ২৪ ও ১০ নম্বর ওয়ার্ডে ‘আইসোলেশন কর্নার’ চালু করা হয়েছে। এখন থেকে হামের উপসর্গ থাকা শিশুদের সাধারণ রোগীদের থেকে আলাদা রেখে চিকিৎসা দেওয়া হবে।
- আক্রান্তের সংখ্যা: বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালেই প্রায় ৫০ জন শিশু হাম ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে। রাজশাহীর দুর্গাপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং কুষ্টিয়া অঞ্চল থেকে আসা শিশুদের মাঝে এই রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যাচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে হওয়ায় আক্রান্ত শিশুকে দ্রুত আলাদা করা এবং টিকা না নেওয়া শিশুদের বিশেষ নজরদারিতে রাখা জরুরি। বিশেষ করে যেসব শিশুর বয়স এক বছরের কম, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি অনেক বেশি।



















