বগুড়ার সান্তাহারে ঢাকা থেকে চিলাহাটিগামী ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি লাইনচ্যুত হওয়ার ১৯ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি রেল যোগাযোগ। এই দুর্ঘটনার কারণে রাজশাহী ও পঞ্চগড়ের মধ্যে চলাচলকারী ‘বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস’ ট্রেনের উভয় প্রান্তের যাত্রা সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ ২০২৬) সকালে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের সহকারী চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট আবদুল আউয়াল জানান, দুর্ঘটনাকবলিত ৯টি বগির মধ্যে ৪টি উদ্ধার করে লাইনে তোলা হয়েছে এবং বাকি ৫টি লাইনের পাশে সরানো হয়েছে। পুরো উদ্ধার প্রক্রিয়া শেষ করতে আরও অন্তত তিন ঘণ্টা সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার ক্ষয়ক্ষতি ও তদন্ত কার্যক্রম:
- আহত ও চিকিৎসা: বুধবার দুপুরে সান্তাহার জংশন অতিক্রম করার পর বাগবাড়ি এলাকায় ট্রেনটি দুর্ঘটনার কবলে পড়লে অন্তত ৬৬ জন যাত্রী আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত আদমদীঘি ও নওগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
- ট্রেন চলাচলে প্রভাব: রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকায় রাজশাহী-পঞ্চগড় রুটের বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেসের নির্ধারিত যাত্রা বাতিল করা হলেও ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা অন্য ট্রেনগুলো বিকল্প হিসেবে বগুড়া হয়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।
- উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি: দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে চার সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ হোসেন মাসুমের নেতৃত্বে এই কমিটিতে মেকানিক্যাল, সিগন্যাল ও ট্রান্সপোর্টেশন বিভাগের চিফ ইঞ্জিনিয়াররা রয়েছেন। কোনো গাফিলতি বা কারিগরি ত্রুটি ছিল কি না, তা গভীরভাবে যাচাই করে দেখা হচ্ছে।
রেলওয়ের কর্মীরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে লাইন মেরামতের কাজ শেষ করে উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকা ও রাজশাহীর সরাসরি রেল যোগাযোগ সচল করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ঘরমুখী যাত্রীদের সুবিধার্থে এবং ঈদযাত্রার চাপ সামাল দিতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করছে।



















