আসন্ন মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠু, সুন্দর ও সম্পূর্ণ নকলমুক্ত পরিবেশে আয়োজনের লক্ষ্যে কেন্দ্র সচিব এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের জন্য ১১ দফা বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। শনিবার (২৮ মার্চ, ২০২৬) পাঠানো এই নির্দেশনায় পরীক্ষা কক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনসহ একগুচ্ছ কড়া নিয়ম পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ২৫ মার্চ শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় এই সিদ্ধান্তগুলো গৃহীত হয়।
আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এই পরীক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে প্রধান নির্দেশনাগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- সিসিটিভি নজরদারি: প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রের প্রতিটি কক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পরীক্ষার পুরো সময় এই ক্যামেরার ফুটেজ সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড ও মন্ত্রণালয় থেকে সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হবে।
- মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ: কেন্দ্র সচিব ছাড়া পরীক্ষার কেন্দ্রে অন্য কেউ (শিক্ষক, কর্মচারী বা শিক্ষার্থী) মোবাইল ফোন বা কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করতে পারবেন না। কেন্দ্র সচিবকেও সাধারণ একটি বাটন ফোন ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
- প্রশ্নপত্র নিরাপত্তা: প্রশ্নপত্রের সেট কোড পরীক্ষার ৩০ মিনিট আগে লটারির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। সিলমোহরকৃত খাম খোলার সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উপস্থিতি বাধ্যতামূলক।
- সময়ানুবর্তিতা: পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে অবশ্যই কেন্দ্রে প্রবেশ করে আসনে বসতে হবে। দেরি করে আসা পরীক্ষার্থীদের বিস্তারিত তথ্য রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করে বোর্ডে পাঠাতে হবে।
- আইনি ব্যবস্থা: পরীক্ষায় কোনো ধরনের অনিয়ম, নকল বা প্রশ্ন ফাঁসের চেষ্টার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ফৌজদারি মামলা ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, মেধাবী শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় এবং পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সরকার কোনো ধরনের আপস করবে না। প্রতিটি কেন্দ্রে বিশেষ টহল দল এবং গোয়েন্দা নজরদারিও বৃদ্ধি করা হয়েছে।



















