ইরানের সাথে চলমান সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম যে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখাচ্ছে, তাকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘সাময়িক’ বলে অভিহিত করেছেন। রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, বিশ্ব ও মার্কিন নিরাপত্তার খাতিরে তেলের দামের এই সাময়িক বৃদ্ধি একটি ‘ছোট মূল্য’ মাত্র। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, ইরানের পারমাণবিক হুমকি নির্মূল হওয়ার সাথে সাথে তেলের বাজার আবার স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং দাম দ্রুত কমে যাবে। যারা এই পরিস্থিতিকে বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিপর্যয় হিসেবে দেখছেন, তাদের ‘মূর্খ’ বলে সম্বোধন করেছেন তিনি।
তবে ট্রাম্পের এই আশাবাদের বিপরীতে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা বেশ প্রকট। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের (অপারেশন এপিক ফিউরি) ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় জ্বালানি তেলের দাম গত কয়েকদিনে আকাশচুম্বী হয়েছে। সোমবার বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ব্যারেল প্রতি ১১১ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ।
পরিস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ দিকসমূহ:
- মূল্যবৃদ্ধি: ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই—উভয় তেলের দামই উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে দীর্ঘস্থায়ী ব্যাঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে।
- সাপ্লাই চেইন সংকট: সৌদি আরব লোহিত সাগর দিয়ে তেলের চালান বাড়ানোর চেষ্টা করলেও, তা বর্তমান ঘাটতি পূরণের জন্য যথেষ্ট নয়। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, যুদ্ধের কারণে যদি তেল কূপ বন্ধ রাখতে হয়, তবে সরবরাহ স্বাভাবিক হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।
- ভোক্তাদের ওপর প্রভাব: জ্বালানির দামের এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি বিশ্বব্যাপী ভোক্তা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা এবং দীর্ঘস্থায়ী সংকটের ভয়ে এশিয়াসহ বিশ্ব পুঁজিবাজারেও নেতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে।
যদিও হোয়াইট হাউস এবং মার্কিন জ্বালানি বিভাগ দাবি করছে যে, এই সংকট কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে—কয়েক মাস নয়, তবুও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
সূত্র: দ্য হিল


















