উজানের ঢল এবং ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে তিস্তা ও ধরলা নদীসংলগ্ন ১১০টি চরের মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পানি বৃদ্ধির ফলে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের ফসলের ক্ষেত তলিয়ে যেতে শুরু করেছে এবং ইতোমধ্যেই বেশ কিছু ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। সময় বাড়ার সাথে সাথে তিস্তার পানি আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টা থেকে তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি যেভাবে হু হু করে বাড়ছে, তাতে যেকোনো সময় আরও বেশি বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে, তিস্তার পানি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে কর্তৃপক্ষ ৪৪টি জলকপাট খুলে দিয়েছে।
তিস্তার চরাঞ্চল ও নদীতীরবর্তী বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ভারী বৃষ্টিপাত ও ভারতের উজানের পাহাড়ি ঢলের কারণে তিস্তার পানি বাড়তে শুরু করেছে। এতে তিস্তার চরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চলে যেকোনো সময় পানি প্রবেশ করে বন্যার সৃষ্টি হতে পারে। তিস্তার পানি আসা-যাওয়ার এই খেলায় এসব এলাকার বাসিন্দারা চরম আতঙ্কিত।
তিস্তা নদী এলাকার বাসিন্দা কুদ্দুস মিয়া বলেন, “আমরা নদীপাড়ের মানুষ সবসময় আতঙ্কে থাকি। বন্যা, খরা, নদী ভাঙনের সঙ্গে যুদ্ধ করে আমাদের জীবন অতিবাহিত হয়। বিশেষ করে ভারতের উজানে যে গেট রয়েছে তার নাম গজলডোবা। এটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। খরা মৌসুমে গেটটি বন্ধ রাখা হয় আর বর্ষা এলেই থেমে থেমে পানি ছেড়ে দিয়ে আমাদেরকে ভাসিয়ে দেয় ভারত। কারণ বৃষ্টির পানিতে বন্যা হয় না, বন্যা হয় ভারতের উজানের পানিতে।”
চর সানিয়াজানের বাসিন্দা রবিউল জানান, হঠাৎ পানি বৃদ্ধির কারণে তার ঘরবাড়িতে পানি ঢুকেছে। একই কথা বলেন চর সিন্ধুনা এলাকার বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম। তিনি বলেন, “তার বাড়ির চারপাশেই পানি। গরু-ছাগল নিয়ে চরম বেকায়দায় রয়েছেন তিনি।”
ডাউয়াবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান বলেন, “পানি বৃদ্ধির কারণে চরের মানুষগুলো চরম বেকায়দায় রয়েছে।”
তিস্তা ব্যারেজ কন্ট্রোল রুম ইনচার্জ নুরুল ইসলাম জানান, উজানের ঢলে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় তিস্তার পানি বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যারেজের ৪৪টি গেট খুলে রাখা হয়েছে।
তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, “পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার অতিক্রম করেছে। আমরা সতর্ক আছি। আমরা চরের মানুষদের সতর্ক থাকতে বলেছি।”



















