মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে দেশের জ্বালানি খাতে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আজ শুক্রবার (২৭ মার্চ, ২০২৬) মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, বিশ্বজুড়ে তেলের সংকট থাকা সত্ত্বেও দেশের ভেতরে কিছু কালোবাজারি অতিরিক্ত তেল মজুত করে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- জ্বালানি সরবরাহ ও বিকল্প উৎস: মন্ত্রী জানান, যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হলেও সরকার দমে থাকেনি। ইতিমধ্যে বিকল্প বিভিন্ন উৎস থেকে তেল সংগ্রহের জন্য যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং বর্তমানে আগের চেয়ে বেশি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে।
- কালোবাজারি রোধে সতর্কতা: তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন যাতে কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে। সাধারণ মানুষকেও এ বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
- ইতিহাস ও রাজনীতি: আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী মন্তব্য করেন যে, রাজনীতিবিদরা যখন ইতিহাসবিদ হয়ে যান, তখন তা কেবল ‘প্রোপাগান্ডা’ বা ক্ষণস্থায়ী বিষয়ে পরিণত হয়। তিনি গুরুত্বারোপ করেন যে, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী প্রকৃত ইতিহাস কেবল নিরপেক্ষ ইতিহাসবিদদের মাধ্যমেই রচিত হওয়া উচিত।
- অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা: বিশ্ববাজারে তেলের চড়া দাম এবং সরবরাহের অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও সরকার এখন পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
উল্লেখ্য, আজ সকালেই অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ৩ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখবে।



















