চলমান বিধ্বংসী যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ইরানের দেওয়া সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন মধ্যপ্রাচ্য ও আরব অঞ্চলের শীর্ষ নেতারা। গতকাল শনিবার (২৩ মে) বিকেলে ট্রাম্পের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের ফোনালাপে আরব ও উপসাগরীয় নেতারা ইরানের সঙ্গে একটি অন্তর্বর্তীকালীন ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক (MoU) গ্রহণ করার জন্য তাঁকে বিশেষভাবে উৎসাহিত করেন। হোয়াইট হাউস ও আঞ্চলিক কূটনৈতিক সূত্রগুলো এই ফোনালাপকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও আশাব্যঞ্জক বলে বর্ণনা করেছে এবং ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থানরত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন যে, পর্দার আড়ালে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে যা থেকে আজ বা আগামী দু-একদিনের মধ্যে বড় কোনো ঘোষণা আসতে পারে। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপের আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনাকে ‘ফিফটি-ফিফটি’ (৫০/৫০) বলে উল্লেখ করে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করা হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি আজ রবিবারের (২৪ মে) মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন; যেখানে আলোচনা হয় একটি ‘ভালো’ চুক্তির দিকে নিয়ে যাবে, অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে একদম ‘ধ্বংসস্তূপে’ পরিণত করার পথ বেছে নেবে।
পর্দার আড়ালে কাতার এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের তেহরান সফরের পর দুই পক্ষ যুদ্ধ বন্ধের একটি খসড়া রূপরেখার কাছাকাছি পৌঁছালেও এই পুরো প্রক্রিয়ার দিকে কড়া নজর রাখছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে শনিবার রাতে তাঁর সীমিত নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছেন, কারণ তেল আবিবের প্রধান উদ্বেগ হলো এই সম্ভাব্য খসড়ায় ইসরায়েলের জন্য সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয় অর্থাৎ ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিষয়টি উপেক্ষিত থেকে যেতে পারে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও রিপাবলিকান পার্টির কট্টর ইরানবিরোধী সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এবং রজার উইকার ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছেন যে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের আধিপত্য মেনে নিয়ে যেকোনো দুর্বল চুক্তি করা হলে তা দীর্ঘমেয়াদে ইসরায়েলের জন্য দুঃস্বপ্ন হবে এবং ট্রাম্পের রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। অন্যপক্ষে, তেহরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ও ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ মার্কিন প্রশাসনকে অবিশ্বস্ত আখ্যা দিয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন যে, এই খসড়া প্রস্তাবে আপাতত পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কোনো আলোচনা হচ্ছে না এবং ট্রাম্প যদি চুক্তি না করে আবারও যুদ্ধ শুরু করার ভুল করেন, তবে মার্কিন বাহিনীর জন্য এবারকার পরিণতি হবে ইতিহাসের সবচেয়ে মারাত্মক ও তিক্ত।



















