মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে দেশের বৃহত্তম পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে। পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক বাজারে বুকিং রেট বৃদ্ধি এবং আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার অজুহাতে ভোজ্যতেল, চিনি ও গমসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, যুদ্ধের কারণে জাহাজ ভাড়া ও বিমা খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় গত কয়েক দিনের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে মণপ্রতি পণ্যের দাম ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বিশেষ করে খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
খাতুনগঞ্জের বর্তমান বাজার পরিস্থিতি এবং এর কারণগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
- আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি: খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের আমদানিকারকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের বুকিং রেট এবং যুদ্ধজনিত কারণে জাহাজ ও পণ্য পরিবহনের বিমা খরচ বহুগুণ বেড়েছে, যা সরাসরি স্থানীয় বাজারে প্রভাব ফেলছে।
- পণ্যভিত্তিক দরবৃদ্ধি: গত কয়েক দিনে চিনি, গম ও ডালের দাম মণপ্রতি ৫০ থেকে ১৫০ টাকা বেড়েছে। এছাড়া পাম অয়েল ও সয়াবিন তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। সরবরাহ ঠিক থাকলেও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার কারণে অনেক ব্যবসায়ী পণ্য মজুত বাড়িয়ে বিক্রি সীমিত রাখছেন।
- জ্বালানি ও পরিবহন সংকট: বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়াকে পণ্যমূল্য বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি।
- আশার আলো: উদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যে একটি ইতিবাচক খবর হলো, মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান। এর ফলে আমদানিকৃত পণ্য দ্রুত দেশে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে বাজার স্থিতিশীল করতে সহায়ক হতে পারে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে মূল্যবৃদ্ধির এই হার আরও বাড়তে পারে। তবে আমদানিকৃত নতুন চালানের পণ্য বাজারে প্রবেশ করলে এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।



















