মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ স্থাপনায় হামলার হুমকি থেকে সাময়িকভাবে সরে এসে দেশটিকে আরও ১০ দিন সময় দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আজ শুক্রবার (২৭ মার্চ, ২০২৬) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ এবং ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই নতুন সময়সীমার কথা নিশ্চিত করেছেন। এর ফলে ইরানের জন্য চূড়ান্ত ডেডলাইন নির্ধারিত হয়েছে আগামী ৬ এপ্রিল (সোমবার) রাত ৮টা (ইস্টার্ন টাইম) পর্যন্ত।
এই বর্ধিত সময়সীমা এবং এর পেছনের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
- সময়ের হিসাব: ইরান প্রাথমিকভাবে হামলা স্থগিতের জন্য ৭ দিন সময় চেয়েছিল। কিন্তু ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরান তাঁর কাছে কয়েকটি তেলবাহী জাহাজ (ট্যাংকার) হস্তান্তর করায় বা ছেড়ে দেওয়ায় তিনি খুশি হয়ে নিজ থেকেই সময় বাড়িয়ে ১০ দিন করেছেন।
- জাহাজ হস্তান্তর: ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, ইরান ৮টি তেলবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে এবং পরে আরও দুটি জাহাজ যোগ করে মোট ১০টি জাহাজকে ‘উপহার’ হিসেবে পাঠিয়েছে, যা আলোচনার প্রতি তাদের আন্তরিকতার প্রমাণ।
- হামলার হুমকি: ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই ১০ দিনের মধ্যে যদি ইরান শর্তগুলো পূরণ না করে বা আলোচনায় কোনো সুরাহা না হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের বৃহত্তম বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে শুরু করে পুরো জ্বালানি ব্যবস্থা ‘ধূলিসাৎ’ করে দেবে।
- আলোচনার স্থিতি: ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, নেপথ্যে আলোচনা ‘খুবই ভালো’ চলছে। যদিও ইরানের স্পিকার ও অন্যান্য কর্মকর্তারা সরাসরি আলোচনার খবর অস্বীকার করে একে ‘মিথ্যা প্রচার’ এবং তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণের কৌশল বলে অভিহিত করেছেন।
- বাজারের প্রভাব: ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমেছে, যা গত এক মাস ধরে যুদ্ধের কারণে ঊর্ধ্বমুখী ছিল।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। একদিকে হামলার স্থগিতাদেশ, অন্যদিকে ইসরায়েলের সাথে সম্মিলিত সামরিক তৎপরতা—সব মিলিয়ে আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সময়টি এই সংকটের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।



















