মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করলেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়ার পার্লামেন্ট ‘সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলি’-তে দেওয়া এক ভাষণে তিনি ঘোষণা করেন, পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হিসেবে উত্তর কোরিয়ার মর্যাদা এখন ‘অপরিবর্তনীয়’। কিম জোর দিয়ে বলেন, ওয়াশিংটনের ‘মিষ্টি কথা’ বা প্রলোভনে পা না দিয়ে নিজেদের পারমাণবিক কর্মসূচি ধরে রাখার যে সিদ্ধান্ত তারা নিয়েছিলেন, ইরান যুদ্ধ প্রমাণ করেছে সেটিই ছিল সঠিক পথ।
কিম জং উন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে একে ‘দ্বিমুখী’ বলে অভিহিত করেন। কয়েক মাস আগে ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ‘পুরোপুরি ধ্বংস’ করার দাবি করলেও এখন ইরানকে ‘আসন্ন হুমকি’ হিসেবে প্রচার করছেন—এই বিষয়টিকে কিম উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন। তার মতে, যেসব দেশের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র নেই, তারা মার্কিন সামরিক আগ্রাসনের মুখে অত্যন্ত অসহায়; আর এই অস্ত্রই উত্তর কোরিয়াকে যেকোনো সম্ভাব্য আক্রমণ থেকে রক্ষা করছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ট্রাম্পের অনির্বারিত বৈঠক এবং উত্তর কোরিয়ার সাথে পুনরায় কূটনীতি শুরুর ইঙ্গিতের মধ্যেই কিমের এই কঠোর বার্তা এলো। কিমের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন পিয়ংইয়ং ক্রমাগত নতুন যুদ্ধজাহাজ ও পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন রকেটের পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কিম জং উন আসলে বিশ্বকে বুঝিয়ে দিলেন যে, আলোচনার টেবিলে বসলেও নিজেদের ‘পারমাণবিক তলোয়ার’ হাতছাড়া করার কোনো ইচ্ছাই তাদের নেই।



















