মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির অস্থিতিশীলতার প্রভাবে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। সোমবার (২৩ মার্চ, ২০২৬) একদিনেই এই মূল্যবান ধাতুর দাম ২ শতাংশের বেশি কমে চার মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্পট গোল্ডের দাম ২.৫% কমে প্রতি আউন্স ৪,৩৭২.৮৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। মূলত ক্রমবর্ধমান সংঘাতের ফলে বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতির উদ্বেগ এবং সুদের হার বাড়ার জোরালো প্রত্যাশায় বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন, যার ফলে টানা নয় দিন ধরে এই দরপতন অব্যাহত রয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দেওয়ার পর ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ইরানও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে যে, তাদের ওপর হামলা হলে তারা উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা লক্ষ্যবস্তু করবে। এই উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। সাধারণত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়িয়ে দেয়, আর সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদে বিনিয়োগের আকর্ষণ কমে যায়।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এদিন স্পট রুপার দাম ৩.২% কমে আউন্স প্রতি ৬৫.৬১ ডলারে এবং প্লাটিনামের দাম ২.৯% কমে ১,৮৬৬.৬৫ ডলারে নেমেছে। প্যালাডিয়ামের দামও ০.৫% কমে ১,৩৯৭.২৫ ডলারে অবস্থান করছে। এশীয় শেয়ারবাজারে বড় পতনের ফলে বিনিয়োগকারীরা নগদ অর্থের প্রয়োজনে স্বর্ণ বিক্রি করে দিচ্ছেন, যা বাজারে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সুদের হারের অনিশ্চয়তা বজায় থাকলে ধাতব বাজারে এই অস্থিরতা আরও কিছুদিন স্থায়ী হতে পারে।



















