পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জেরুজালেমের ঐতিহাসিক আল-আকসা মসজিদে ফিলিস্তিনিদের নামাজ আদায়ে কঠোর বাধা দিয়েছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। শুক্রবার (২০ মার্চ ২০২৬) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, ১৯৬৭ সালের পর এটিই প্রথম ঘটনা যেখানে ঈদের দিনে এই পবিত্র স্থানটি মুসল্লিদের জন্য পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলি সেনারা প্রধান ফটকগুলো তালাবদ্ধ করে দেওয়ায় শত শত মুসল্লি ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি, যা ওই অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
বর্তমান পরিস্থিতি ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র:
- রাস্তায় নামাজ আদায়: মসজিদে প্রবেশ করতে না পেরে ক্ষুব্ধ মুসল্লিরা দামেস্ক গেট এবং আশেপাশের রাস্তাগুলোতে নামাজ আদায় করতে বাধ্য হন। জেরুজালেম গভর্নরেট এই পদক্ষেপকে ‘ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত’ এবং পরিস্থিতিকে ‘বিপজ্জনকভাবে উসকে দেওয়ার চেষ্টা’ হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে।
- অবরোধের ২১ দিন: ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গত ২১ দিন ধরে আল-আকসায় মুসল্লিদের প্রবেশাধিকার বন্ধ করে রেখেছে ইসরায়েল। ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে মসজিদটিকে ইসলামি পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ‘জুডাইজেশন’ বা ইহুদিকরণ প্রক্রিয়া চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
- গাজায় ধ্বংসস্তূপের মাঝে ঈদ: অন্যদিকে, গাজায় ফিলিস্তিনিরা চরম মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যেও ঈদ পালন করেছেন। ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় গাজার প্রায় ১,২৪০টি মসজিদের মধ্যে ১,১০০টিরও বেশি ধ্বংস হয়ে গেছে। ফলে মুসল্লিরা খোলা আকাশের নিচে বা ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদের ধ্বংসাবশেষের সামনেই ঈদের নামাজ আদায় করেন।
গণহত্যা, বাস্তুচ্যুতি এবং তীব্র অভাবের মধ্যেও গাজার সাধারণ মানুষ ঈদের ঐতিহ্য বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞার তীব্র সমালোচনা করলেও আল-আকসা চত্বরে ইসরায়েলি বাহিনীর অবস্থান এখনো কঠোর রয়েছে।



















