আসন্ন ঈদুল ফিতরে উত্তরবঙ্গগামী ঘরমুখো মানুষের জন্য ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার অংশ গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এই অংশে চলমান চার লেনের উন্নীতকরণ কাজ, ফ্লাইওভার এবং আন্ডারপাস নির্মাণের ফলে সৃষ্টি হওয়া প্রতিবন্ধকতা ঈদযাত্রায় দীর্ঘ যানজটের আশঙ্কা তৈরি করেছে। প্রতিদিন এই মহাসড়ক দিয়ে প্রায় ৪৫ থেকে ৬০ হাজার যানবাহন চলাচল করে, যা ঈদের সময় আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
সাসেক-২ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২২ সালে শুরু হওয়া এই উন্নয়ন কাজের বর্তমানে মাত্র ৫০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, এলেঙ্গা এলাকায় ফ্লাইওভার এবং বিভিন্ন স্থানে আন্ডারপাস নির্মাণের জন্য সড়কের মাঝখানে বালুর স্তূপ ও নির্মাণসামগ্রী রাখা হয়েছে, যা স্বাভাবিক যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে। জয়দেবপুর থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত চার লেনের সুবিধা থাকলেও এলেঙ্গার পর থেকে রাস্তা সরু হয়ে যাওয়ায় সেখানে প্রতিবছরই ‘বোটলনেক’ বা যানজটের সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে গৃহীত পদক্ষেপসমূহ:
- সার্ভিস লেন উন্মুক্তকরণ: প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোনেম লিমিটেড জানিয়েছে, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে উত্তরবঙ্গগামী সার্ভিস লেন খুলে দেওয়া হবে এবং বিকল্প সড়কের ব্যবস্থা রাখা হবে যাতে চার লেনের সুবিধা পাওয়া যায়।
- পুলিশ মোতায়েন: টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, মহাসড়কে প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। ডাকাতি প্রতিরোধে টহল জোরদার এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।
- ট্রাক চলাচল সীমিত: ঈদের কয়েকদিন আগে থেকেই যাত্রীবাহী বাস ছাড়া ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান চলাচল সীমিত রাখা হবে।
- টোলপ্লাজায় সতর্কতা: যমুনা সেতুর টোলপ্লাজায় যাতে টোল আদায়ে ধীরগতি না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
চালক ও যাত্রীদের মতে, এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত অংশটি দ্রুত যাতায়াত উপযোগী করা না হলে এবারও ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকার ভোগান্তি পোহাতে হতে পারে। বিশেষ করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এবং সাধারণ যাত্রীরা এই ১৩ কিলোমিটার পথ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।



















