যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তেহরান তার সামরিক অবস্থান থেকে পিছু হটবে না এবং প্রয়োজনে মিসাইল হামলা অব্যাহত রাখবে। সোমবার (৯ মার্চ) মার্কিন সংবাদমাধ্যম পিবিএস নিউজকে (PBS News) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই কঠোর মনোভাব ব্যক্ত করেন। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের বড় অংশ ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় এই যুদ্ধ ‘খুব দ্রুত’ শেষ হতে যাচ্ছে।
আব্বাস আরাগচি তাঁর বক্তব্যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলার প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি জানান, ওই দিন ইরান ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নজিরবিহীন হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইতিমধ্যে ইসরায়েল এবং ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন মিত্র দেশগুলোর বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ট্রাম্পের ‘যুদ্ধ শেষের সময়সীমা’ সংক্রান্ত মন্তব্যকে উড়িয়ে দিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, এই যুদ্ধ কখন এবং কীভাবে শেষ হবে, তা কেবল ইরানই নির্ধারণ করবে।
ইরানের বর্তমান অবস্থানের মূল প্রেক্ষাপট:
- আলোচনায় অস্বীকৃতি: আরাগচি স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান আগ্রাসনের মুখে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো কূটনৈতিক আলোচনার প্রশ্নই আসে না।
- পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ: ইরানের দাবি অনুযায়ী, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনী এখনও পুরোপুরি সচল এবং যে কোনো বড় ধরনের হামলার জবাব দিতে তারা প্রস্তুত।
- ট্রাম্পের দাবির প্রতিবাদ: ট্রাম্প দাবি করেছিলেন ইরানের দুই স্তরের নেতৃত্ব ধ্বংস হয়ে গেছে, যার জবাবে তেহরান বলছে এটি মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘ভুয়া সামরিক সাফল্য’ তৈরির একটি চেষ্টা মাত্র।
- আঞ্চলিক অস্থিরতা: তেহরানের এই অনমনীয় মনোভাবের ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে এবং ইসরায়েল সীমান্তে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির ক্ষমতা গ্রহণের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রীর এমন কড়া অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তেহরান দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। যেখানে হোয়াইট হাউস দাবি করছে বিজয় আসন্ন, সেখানে আরাগচির এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও অনিশ্চিত করে তুলেছে।



















