ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনির নির্বাচিত হওয়ার খবরে আবারও নিজের কঠোর অবস্থানের কথা জানান দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন ছাড়া ইরানের শীর্ষ পদে কাউকেই দীর্ঘ সময় টিকতে দেওয়া হবে না। গত রোববার ইরানের বিশেষ পরিষদ ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ আয়তুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করার কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্প এই হুঁশিয়ারি দেন।
এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “তাঁকে (ইরানের নতুন নেতা) আমাদের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে। যদি তিনি আমাদের অনুমোদন না পান, তবে তিনি বেশি দিন টিকতে পারবেন না।” ট্রাম্পের এই মন্তব্যের মূল উদ্দেশ্য হলো ভবিষ্যতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বা অন্য কোনো বড় ধরনের সংকট মেটাতে নতুন করে সামরিক অভিযানের প্রয়োজনীয়তা চিরতরে শেষ করা। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, তিনি চান না পাঁচ বছর পর অন্য কোনো মার্কিন সরকারকে একই সমস্যা নিয়ে আবারও যুদ্ধে জড়াতে হোক।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও ইরানের প্রতিক্রিয়া:
- খামেনির মৃত্যু: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকেই উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
- মোজতবা খামেনির নির্বাচন: গতকাল রোববার ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ মোজতবাকে নতুন নেতা হিসেবে বেছে নেয়। তবে ট্রাম্প আগেই জানিয়েছিলেন যে, খামেনির ছেলে তাঁর কাছে কোনোভাবেই ‘গ্রহণযোগ্য’ নয়।
- তেহরানের শক্ত অবস্থান: ট্রাম্পের বক্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি সাফ জানিয়েছেন, সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের বিষয়টি সম্পূর্ণ ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এতে ওয়াশিংটনের প্রভাব খাটানোর কোনো সুযোগ নেই। তাঁর মতে, এ সিদ্ধান্ত কেবল ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদ ও জনগণের।
- বিশ্লেষকদের অভিমত: স্টিমসন সেন্টারের ফেলো বারবারা স্লাভিন মনে করেন, ট্রাম্পের এই অনমনীয় মনোভাব মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে, কারণ ট্রাম্প ইতিমধ্যে মোজতবাকে নেতা হিসেবে মেনে না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই সরাসরি হস্তক্ষেপে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হয়েছে। ইরানের নতুন নেতৃত্ব এবং হোয়াইট হাউসের এই সংঘাত বিশ্বের জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।



















