ইরানের আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল (ICBM) প্রোগ্রামের নেপথ্যে উত্তর কোরিয়ার সরাসরি প্রযুক্তিগত সহায়তার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ ড. ব্রুস ই. বেচটল জুনিয়র। তাঁর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলো দীর্ঘদিন ইরানের সক্ষমতাকে খাটো করে দেখালেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। উত্তর কোরিয়া থেকে ৮০ টন ওজনের রকেট বুস্টার ইরানে পাচার করার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা মূলত পিয়ংইয়ংয়ের শক্তিশালী ‘এইচওয়াসং-১৫’ মিসাইল প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এই গোপন অংশীদারিত্ব এখন সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৫ সালে যখন বিশ্বশক্তির সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক চুক্তি (JCPOA) নিয়ে আলোচনা চলছিল, তখনও গোপনে রকেটের চালান পাঠিয়েছিল উত্তর কোরিয়া। উত্তর কোরিয়ার আরডি-২৫০ ইঞ্জিনের অনুকরণে তৈরি ইরানের এই সিস্টেমটি সমুদ্রপৃষ্ঠে ৮০ টন থ্রাস্ট তৈরি করতে সক্ষম, যা একটি ক্ষেপণাস্ত্রকে প্রায় ৮ হাজার মাইল দূরে লক্ষ্যভেদে সহায়তা করে। কেবল যন্ত্রাংশ নয়, উত্তর কোরিয়ার বিশেষজ্ঞ দল ও কুখ্যাত অস্ত্র সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা বর্তমানে তেহরানে অবস্থান করে ড্রোন ও মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতেও সহায়তা করছেন। ২০২১ সালের জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ প্যানেলের রিপোর্ট এবং মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের নিষেধাজ্ঞার তালিকাও এই অবৈধ ও কৌশলগত সামরিক লেনদেনের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
ইরান-উত্তর কোরিয়া সামরিক সহযোগিতার মূল দিকসমূহ
- মূল প্রযুক্তি: উত্তর কোরিয়ার ‘এইচওয়াসং-১৫’ মিসাইলের ৮০ টন ওজনের রকেট বুস্টার।
- ইঞ্জিন সক্ষমতা: আরডি-২৫০ ইঞ্জিনের মাধ্যমে ৮ হাজার মাইল পর্যন্ত পাল্লা নিশ্চিতকরণ।
- কূটনৈতিক লুকোচুরি: ২০১৫ সালের পারমাণবিক আলোচনার সময়ও গোপনে সরঞ্জাম সরবরাহ।
- বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতি: উত্তর কোরিয়ার ‘কোরিয়া মাইনিং ডেভেলপমেন্ট’ ও ‘গ্রিন পাইন’-এর প্রতিনিধিরা
- বর্তমানে তেহরানে অবস্থানরত।
সূত্র: নাইনটিন ফোরটি ফাইভ



















